তানোরে আশংকাজনক হারে ঝড়ে পড়ছে আমের মুকুল
তানোর প্রতিনিধি:
বিগত বছরগুলোর চেয়ে রাজশাহীর তানোরে এবার প্রতিটি আম গাছে প্রচুর পরিমানে মুকুল ধরলেও আমের সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে বৃক্ষ মালিকদের অজ্ঞতা ও বৃষ্টি না হওয়ার কারণে বেশিরভাগ গাছ থেকেই আশংকাজনক হারে মুকুল ঝড়ে পড়ছে। এতে আমের ফলন বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় শতাধিক ছোটবড় আম বাগানের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় রয়েছে শতশত আম গাছ। আর অযত্নে অবহেলায় বড় হওয়া এই গাছগুলোতে সেই প্রাচীনকাল থেকে প্রাকৃতিক নিয়মেই প্রচুর দেশী আমের ফলন হলেও এলাকার মানুষের মধ্যে আম গাছের পরিচর্যা নিয়ে কোনদিন আগ্রহ দেখা যায়নি। বরং এলাকাবাসীর ধারণা আম গাছের জন্য বাড়তি কোন পরিচর্যার প্রয়োজন নেই। এর ফলে যে পরিমাণ আমের ফলনের সম্ভাবনা ছিলো প্রকৃত পক্ষে তা পাওয়া যাচ্ছে না।
সরেজমিনে উপজেলার চাপড়া, কালনা, তালন্দ, জিওল, মুন্ডুমালা, কাঁমারগা, কলমাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বেশিরভাগ গাছেই প্রচুর মুকুল ধরলেও এর মধ্যে আমে পরিণত হচ্ছে অতি সামান্য অংশ। এছাড়া বেশিরভাগ মুকুল ঝড়ে গিয়ে ইতোমধ্যেই গাছগুলি একপ্রকার শূণ্য হয়ে পড়েছে।
উপজেলার চাপড়া গ্রামের আমচাষী সাইদুর রহমান বলেন, এখানে চাঁপাই নবাবগঞ্জের মত বড় কোন আম বাগান নেই। তবে বিগত ১৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ৪০ থেকে ৩০ শতক বা এক-দেড় একর জমির উপর কিছু আম বাগান গড়ে উঠেছে। বড় বাগান না থাকলেও এই উপজেলার প্রায় প্রতিটি বসত বাড়িতেই কমবেশি আম গাছ রয়েছে। এগুলোতে যুগ যুগ ধরে প্রচুর আম ধরে। স্থানীয়রা নিজে খাওয়ার পাশাপাশি অনেক আম বাজারে এনে বিক্রি করে থাকে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে অনেকেই আমগাছে না জেনে বুঝে বিভিন্ন কোম্পানীর বিষ স্প্রে করেছে। তবে এর ফলে এবার যে অবস্থা তা দেখে মনে হচ্ছে আম গাছে বিষ স্প্রে করলে ফলন ভালো হবে এমন অর্থ নেই। বরং স্প্রে করলে আমগুলো বিষাক্ত হবে বলেও ধারণা তার।
উপজেলার নতুন গড়ে উঠা আম বাগানের মালিকদের দাবী, সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যাক্তিদের দায়িত্বে অবহেলা ও কৃষকদের প্রাচীন চাষাবাদ পদ্ধতির কারণেই মূলত এবার আম চাষে প্রথমেই মুখ থুবড়ে পড়েছে।
উপজেলা উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, আম গাছে মুকুল দেখা যাওয়ার পর থেকে তা আমে পরিনত হওয়া পর্যন্ত সময়ে উপজেলার সচেতন আমচাষীরা নিয়মানুযায়ী স্প্রে, ঔষুধ প্রভৃতি ব্যবহার করায় এবং পরিচর্যা করায় প্রতিবছর তাদের আম বাগানে ভালো ফলন হচ্ছে। এই কর্মকর্তা আশা করেন এই প্রচেষ্টা অব্যহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অর্থকারী ফসল হিসেবে আম চাষের এলাকা হিসেবে রাজশাহীর তানোরের পরিচিতি আর ছড়িয়ে পড়বে।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, একসময় এখানে শুধুমাত্র দেশী বা গুটগুটি আম চাষ হতো। বর্তমানে উপজেলার আম বাগানগুলোতে খিসরা, লাংড়া, গোপালভোগ, মোহনভোগ, ফজলী, সুবর্ণরেখা প্রভৃতি আমও চাষ হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মুকুল ঝড়ে যাওয়ার জন্য সঠিক পরিচর্যার অভাবই দায়ী। তবে, বোরণ এবং পটাশ পঞ্চাশ গ্রাম করে ১৬লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করলে কিংবা শুধুমাত্র ঠান্ডা পানিও স্প্রে করলে মুকুল ঝড়ে পড়ার হার অনেকাংশে কমে যায় বলে জানান তিনি । আর বসত বাড়ির গাছগুলো পরিচর্যার অভাবে ফলন নষ্ট হলেও বাগানগুলিতে হরমোন, ছত্রাক নাশক প্রভৃতি স্প্রে করায় সেখানে মুকুল ঝরার হার খুবই কম এবং পোকাবিহীন আম হচ্ছে। এসব বিষয়ে সচেতনার লক্ষে কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সবাইকে সচেতন করার চেষ্টাও অব্যাহাত রয়েছে বলে জানান তিনি।

