চরফ্যাশনের গ্রামে গ্রামে চলছে তরমুজ উৎসব
ভোলা সংবাদদাতা:
আবহাওয়া দিনদিন গরম হচ্ছে। কোনো কোনো দিন তা অসহনীয় হয়ে উঠছে। গরমে দেখা দেয়া তৃষ্ণা। আর তা নিবারণে মানুষ নানা ধরনের পানীয় ও রসালো ফলের আশায় থাকে। আর এর মধ্যে এগিয়ে রয়েছে পুষ্টিগুণে ভরা তরমুজ।
চরফ্যাশনের গ্রামে গ্রামে এখন তরমুজ কাটার উৎসব শুরু হয়েছে। একটানা তৃতীয় মৌসুমের মতো তরমুজের বাম্পার উৎপাদন গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলেছে। যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ কৃষক পরিবারের জীবন যাত্রায়। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পাইকাররা এখন তরমুজ সংগ্রহের জন্য গ্রামের কৃষকের ক্ষেতে ক্ষেতে ছুটছে।
প্রত্যন্ত গ্রামের সড়ক ধরে দৈত্তাকার ট্রাকগুলো পৌঁছে যাচ্ছে কৃষকের ক্ষেতে। নদীকূলে ঝাঁকে ঝাঁকে কার্গো ভিড়ছে তরমুজ নিতে। কৃষক থেকে পাইকারের হাত ঘুরে প্রতিদিন কার্গো, ট্রাক এবং লঞ্চ বোঝাই তরমুজ বরিশাল, ঢাকা-চট্টগ্রামের আড়ত ঘুরে দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় হাট-বাজার থেকে শুরু করে রাস্তার আশে-পাশে বিকিকিনি হচ্ছে তরমুজ। দিনমজুর, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই তরমুজ কাটার উৎসবে সামিল হয়েছে। রসূলপুর ইউনিয়নের চাষী নঈম মিয়া জানান, এবছর তিনি ১০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। খরচ হয়েছে ৪ লাখ টাকার কিছু বেশি। এ পর্যন্ত ২ একর তরমুজ ক্ষেত ঠিকা বিক্রি করেছেন ৩ লাখ টাকা। বাকি তরমুজ ২/১ দিনের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হবে। সব তরমুজ ঠিক-ঠাক বিক্রি করতে পারলে ১০ লাখ টাকার বেশি লাভের আশা করছেন তিনি।
চর হরিষ গ্রামের তরমুজ চাষী জাহাঙ্গীর আলম জানায়, তিনি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পারিবারিক উৎসাহে গত বছর ৩ একর জমিতে তরমুজ চাষ করে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন। এ বছর ৭ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। সব তরমুজ বিক্রি করে সাড়ে ৮ লাখ টাকা লাভ করেছেন। নঈম ও জাহাঙ্গীরের মতো উপজেলার তরমুজ চাষীরা লাভের অংশ ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মুজিব নগর, চর কলমী, নজরুল নগর, ওসমানগঞ্জ, নীল কমল, নুরাবাদ, রসূলপুর এবং আবু বকরপুর ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ স্কিমের আওতায় তরমুজের চাষ হয়েছে। সার, কীটনাশকের সহজলভ্যতার পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সর্বত্রই হয়েছে বাম্পার ফলন। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পাইকাররা গ্রামে ছুটে আসায় প্রত্যাশিত মূল্যও মিলেছে বসে গ্রামে বসেই।
চরফ্যাশন কৃষি অফিস কর্মকর্তা মনোতোষ সিকদার জানান, চরফ্যাশনে তরমুজ চাষে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে কৃষকরা বোরো চাষ ছেড়ে এখন তরমুজ চাষে ঝুঁকে পড়েছে। গত বছর এখানে ১৫ হাজার একর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এ বছর তা বেড়ে ২৫ হাজার একরে দাঁড়িয়েছে। ক্ষেতে ঠিকা বিক্রি করলেও এখানে সাড়ে ৪শ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি সম্ভব। গোটা উপজেলায় তরমুজ উৎসব শুরু হয়ে গেছে। তরমুজের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি ক্ষেতে বাসে প্রত্যাশিত মূল্য পাওয়ায় আগামী দিনগুলোতে কৃষকরা তরমুজ চাষকে ভাগ্যবদলের উপলক্ষ্য হিসেবে নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

