ফরিদপুরে প্রধান নদ-নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি।

ফরিদপুর সংবাদদাতাঃ পদ্মা নদীসহ ফরিদপুরের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানিতে প্লাবিত হতে শুরু করেছে নিম্নাঞ্চলের চরাঞ্চল। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় কৃষকরা।

কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অর্ধ-পাকা বাদাম, ধান ও তিল কাটা শুরু করেছেন ফরিদপুর সদরের নিচু জমির কৃষকরা। এতে করে কিছুটা হলেও লোকসান কমানো যাবে হলে ধারনা করা হচ্ছে।

পালডাঙ্গী এলাকার কৃষক রমজান আলী ভূঁইয়া জানান, তিনি আট বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। কিন্তু পদ্মা নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় সব জমির বাদাম তলিয়ে গেছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অন্য এক কৃষকের স্ত্রী সুফিয়া বেগম বলেন, “আমি ৩০ হাজার টাকা খরচ করে এক একর জমিতে বাদাম চাষ করে এই বাদাম বিক্রি করে সংসার চালানোর পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু আকস্মিক বন্যা আমাকে কাঁচা বাদাম কাটতে বাধ্য করেছে যেগুলো পশু-খাদ্য ছাড়া আর কোনো কাজে লাগবে না।”

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ হযরত আলী জানান, বন্যার পানি নিচু এলাকায় ঢুকে পড়ায় বাদাম, তিল ও ধানের ক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। এ বছর ফরিদপুর জেলায় প্রায় ২৮ হাজার ৬৪৪ হেক্টর জমি বাদাম চাষের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সরকারী সহায়তা দিয়ে কৃষকদের সাহায্য করার চেষ্টা করব।”

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা জানান, “পদ্মা নদীর পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। গত সাত দিনে পানির স্তর দুই মিটার বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে”।

  •  
  •  
  •  
  •