ধানে চিটা হওয়ায় দিশেহারা নওগাঁর কৃষক
নওগাঁ প্রতিনিধি:
কোনো কীটনাশক দিয়েও খাদ্যে উদ্বৃত্ত নওগাঁর রাণীনগর ও আত্রাইয়ে শত শত বিঘা জমির ইরি-বোরো ধান চিটা হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এতে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অধিকাংশ কৃষক তাদের খরচের টাকাও ঘরে তুলতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, ধানের চিটা দেখা দেয়ার পর কৃষি কর্মকর্তাদের কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় তারা এ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
রাণীনগর উপজেলায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে ১৯ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে ও আত্রাই উপজেলায় ১৮ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। এর অধিকাংশই জিরাশাইল। ধানও ভালো হয়। কিন্তু হঠাত্ করে দেড় সপ্তাহ আগে রাণীনগর উপজেলার বড়গাছা ইউনিয়নে বড়গাছা, আকনা, বাঁশবাড়ীয়া, দেউলিয়া, খাসগড়, নলদীঘি, গোনা ইউনিয়নের গোনা, বহলা ও পিরপাড়া এবং আত্রাই উপজেলার মনোয়ারি ইউনিয়নের নওদুল, বাঁকা, নইদীঘি, ভোঁপাড়ার ইউনিয়নের জামগ্রাম, তিলাবাদুড়ী, জালুপোঁয়াতা, শাহাগোলা ইউনিয়নের কয়সা, চাপড়া, লহিপুরসহ আরো ১০/১২টি গ্রামের মাঠে ধানের শীষের গোড়ায় কাল দাগ দেখা দেয়। এ ঘটনায় কৃষকরা প্রাথমিকভাবে স্থানীয় কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে জমিতে কিটনাশক স্প্রে করেও ধান রক্ষা করতে পারেননি।
রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম গোলাম জানান, গত বছর বন্যা হওয়ায় মাটিতে পলি পড়ে উর্বর ছিল। এরপর যে কৃষক বেশি সার দিয়েছেন তাদের জমিতে ধান চিটা হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, ঘটনাটি জানার পর কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম কাওছার হোসেন জানান, গত দেড় সপ্তাহ আগে এলাকায় ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আত্রাই উপজেলার মনোয়ারি এলাকায় ২শ’ হেক্টর জমিতে ধানের চিটা দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে কৃষকদের ব্যাপক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহ পর থেকে ধান কাটা-মাড়াই শুরু হবে। এতে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

