বিক্ষোভের মুখে জবি ছাত্রলীগ নেতা বহিষ্কার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিভাগের পরীক্ষা চলাকালীন আক্রমণের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল চালক ও ছাত্রলীগকর্মী সম্রাটকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করেছে প্রশাসন। এর আগে তাদের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে পরীক্ষা চলাকালীন শাখা ছাত্রলীগের কর্মী সম্রাট ও রাহিদ তার দলবল নিয়ে হামলা চালায়। দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন করে। সম্রাট ও রাহিদ উভয়ে সামাজবিজ্ঞান বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এ সময় তারা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে হামলাকারী সম্রাট ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

মানববন্ধনকারীরা দাবী করেন, হামলার সময় বেশ কয়েকজন মেয়েকে হামলাকারীরা শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে। প্রক্টর অফিসে তারা অভিযোগপত্র দিতে গেলেও সেখানে সম্রাটের লোকজনেরা অভিযোগকারীদেরকে হুমকি দিয়ে বলেন, মুখ চিনে রাখছি ক্যাম্পাসের বাইরে তোদের দেখে নিব। এছাড়া অকথ্য ভাষায়ও গালি-গালাজ করতে থাকেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক ছাত্রী বলেন, আমরা পরীক্ষা দিচ্ছিলাম এ সময় তারা এসে আমাদের ওপর আক্রমণ করেছে এবং আমাদের অনেক মেয়দেরকে যৌন হয়রানি করেছে। আমি নিজেও এর শিকার। তাই আমাদের দাবি তাকেসহ তার সাথে যারা ছিল তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হোক।

মানবন্ধনে অংশ নেওয়া এবং হামলার শিকার অপর ছাত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষকেরা আমাদের সাথে আছেন, দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের এ আন্দোলন চালিয়ে যাব।

এদিকে এ হামলার নিন্দা ও সেই ছেলেসহ তার সাথে যারা ছিল তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আল আমীন। তিনি বলেন, এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আমি ও দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমীন। আমরা চারুকলার এ মানববন্ধনে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছি। যদি আজকের মধ্যে সম্রাটের শাস্তি না হয় তবে আমরা তাদের সাথে একাত্ম হয়ে আন্দোলন করব।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষারত অবস্থায় জবির বোটানিক্যাল গার্ডেনে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় ছাত্রলীগকর্মী সম্রাট গার্ডেনে প্রবেশ করতে চাইলে পরীক্ষার্থী আবেশ তাকে নিষেধ করেন। এতে সম্রাট ক্ষিপ্ত হয়ে সেখানে নারী শিক্ষার্থী জ্যোতীকেসহ আরো কয়েকজন ছাত্রীকে নানানভাবে ইভটিজিং করতে থাকে। সম্রাটকে আবেশ নামের শিক্ষার্থী বাধা দিলে সে আরো বেশি ক্ষেপে ওঠে এবং বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সে চড়াও হয়। এরপর সম্রাট তার সাথে আরো ৭/৮ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় নারী শিক্ষার্থীদের শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয়। এ সময় সম্রাটের সঙ্গে রাহিদ নামের একজন ছিল বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে জবি প্রশাসন প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ বলেন, আমরা লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, সম্রাট ছাত্রলীগের কেউ না। আমি তাকে চিনি না। যেহেতু সম্রাট চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, আর চারুকলা বিভাগ লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছে। সেখানে আমরাও তার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

এ ব্যাপারে চারুকলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. বজলুর রশিদ খান সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা বোটানিক্যাল গার্ডেনে আউট ডোর পরীক্ষা দেওয়ার সময় ছাত্রলীগের কিছু কর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। আমরা জবি প্রশাসনকে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছি, ভিসি স্যারকে জানিয়েছি। আমরা এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটানার তীব্র নিন্দা ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

এ বিষযে জানতে চাইলে জবি ভিসি ড. মীজানুর রহমান জানান, আমরা তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছি এবং তদন্ত কমিটি করছি। তাদের তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: