বাকৃবিতে ছাত্রলীগের উপর ছাত্রদলের হামলা: আহত ৮

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ছাত্রদলের হামলায় ছাত্রলীগের আট কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার (৫মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ওই ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মীরা ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকে উৎপাদনমুখী শিক্ষাব্যবস্থার দাবি নিয়ে লিফলেট বিতরণ করেন। পরে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জসিমউদ্দিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেনের সমর্থকেরা ওই ফটকে একই লিফলেট বিতরণ করতে থাকেন। খবর পেয়ে ছাত্রলীগের বেশ কিছু কর্মী প্রধান ফটকে গিয়ে লিফলেট দিতে বাধা দেন।
একপর্যায়ে ছাত্রদলের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ফটকের অদূরে উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা ছাত্রদলের কর্মীরা ছাত্রলীগের কর্মীদের ওপর লাঠি দিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এতে ছাত্রলীগের কর্মী হাসান বিশ্বাস, রাসেল আহাম্মেদ, ইমতিয়াজ আবীর, আশিক মাহমুদ, কামরুল হাসান সিদ্দিকী, বিকাশ ঘোষ, শামীম আকরাম ও আলমগীর রায়হান আহত হন। এঁদের মধ্যে প্রথম চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পরে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ছাত্রলীগের কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রধান ফটকে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁরা ছাত্রদলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ এসে তাঁদের সরিয়ে দেন। পরে ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে গিয়ে বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি সবুজ কাজীর অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার বিরোধী লিফলেট বিতরণ করছিলেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।

“এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদল হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।”

ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য ওত পেতে থাকা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা লিফলেট বিতরণের নাটক করেছে। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ছাত্রলীগের কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন জনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শিক্ষানীতির উপর কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ২৫ দফা দাবি সম্বলিত লিফলেট প্রক্টরের অনুমতি নিয়েই প্রধান ফটকে বাসে বিলি করছির ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। এমন সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পাঁচটি মোটরসাইকেল চেপে এসে আমাদের গালিগালাজ করে এবং লিফলেট বিতরণে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে আমাদের ওপর চড়াও হয় তারা। এসময় আমিসহ সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন সুজন ও সদস্য সোয়েব আহত হন।”

ঘটনার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: