নানা সমস্যায় জর্জরিত জাবির শহীদ রফিক-জব্বার হল
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
নানা সমস্যায় ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বারহল। হলে ১ম ও ২য় বর্ষের শিক্ষার্থীদের থাকার জায়গা নেই, রিডিংরুম নেই, হলে ফটোকপির ব্যবস্থা নেই, হলের নিয়োগ প্রাপ্ত মসজিদে ইমাম নেই, সেলুন নেই, ডাইনিং এ বসার জায়গা নেই, শিক্ষার্থীদের খেলারমাঠ নেই। সংকট-সমস্যা-অব্যবস্থাপনাএ হলের আদ্য-পান্ত। সে সকলসুযোগ-সুবিধারয়েছে সেগুলো যথাযথ তত্ত্বাবধানের অভাবে উপযোগিতা হাড়িয়ে ফেলেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, হলে ১মবর্ষের শিক্ষার্থীদের ঘুমাতে হয় ডাইনিংরুমে। রান্না-বান্না-খাবারের গন্ধে কষ্ট করে ঘুমালেও লেখা-পড়া করার কোন ব্যবস্থায় নেই। এদিকে হলে ডাইনিংচালু রয়েছে কিন্তু পচা মাছ-মাংস ও সবজি যেননিত্য দিনের সঙ্গী। সারা বছরেও খাবারের মেনুতে পরিবর্তন হয় না।
প্রত্যেকদিন, প্রত্যেক বেলা একই ধরনের খাবার। পুরো কক্ষ জুড়ে গণ-রুম হওয়ায় ডাইনিংএর জন্য এক পার্শে কয়েকটি ব্রেন্স দেয়া হয়েছে। অধিকাংশ সময় ডাইনিং এ বসার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।
ডাইনিং এর খাবারের মান ভাল নাহওয়া এবং হলের আশেপাশে কোন খাবারের দোকান না থাকাই হলের ৮ শতাধিক শিক্ষার্থীকে হল ক্যান্টিনের উপর নির্ভর করতে হয়।ক্যান্টিনের নাম ‘ছাত্র বন্ধু ক্যান্টিন‘। পচা-বাসি আর অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে ক্যান্টিন সবার কাছে এখন ‘ছাত্র শত্রু ক্যান্টিন’। নোংড়া ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না-বান্না সহ খাবার পরিবেশন করা হয়। ২-৩ জনশিশু-শ্রমিক দিয়েই পুরো ক্যান্টিন চালাচ্ছেন ক্যান্টিন মালিক সোহেল। ক্যান্টিন-ডাইনিংএর পঁচা-বাসি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে প্রায়ই অসুস্থ্য হয়ে পরছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
খোঁজ নিয়েজানা যায়, মাসিক ভাড়া ৮০০ টাকা না দিতেপারাই ৮ মাস আগে এ হলে ফটোকপির ব্যবস্থা বন্ধকরে দেয় হল প্রভোস্ট। ফলে কোন কিছু ফটোকপি করার প্রয়োজন হলেই ২০ টাকা রিক্সাভাড়াও ১ ঘণ্টা সময় ব্যয় করেবিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে ফটোকপি করে আনতে হয়।
হলে মসজিদের ব্যবস্থা আছে কিন্তু নিয়োগ প্রপ্ত কোন ইমাম নেই। শিক্ষার্থীদ্বারাই ৫ বছর ধরে মসজিদের ইমামতি চলছে। ৫ বছরধরে খোরশেদ আলম নামের এক শিক্ষার্থী নামে মাত্র বেতনে ইমামের দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষার্থীরা তাকে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানালেও নিয়োগ বাণিজ্যে ভাগ-বাটোয়ারায় তা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মসজিদের বিভিন্ন সময় কোন জিনিস পত্রের প্রয়োজন হলেই শিক্ষার্থীদের কাছে চাঁদা তুলে তা সমাধান করতে হয়।
৬ বছরেও হলে সেলুনের ব্যবস্থা হয়নি। শিক্ষার্থীদের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় দুটি দোকান থাকলেও সেই গুলো প্রয়োজনীয় তেমন কিছুই পাওয়া যায় না। হল চালুর সময় ময়লা আবর্জনা রাখার জন্য ঝুরির ব্যবস্থা করা হয়ে ছিল। কিন্তু কয়েক বছরে নষ্ট হয়েগলেও নতুন কোন ঝুরির ব্যবস্থা হয়নি। দীর্ঘ দিন পরপর টয়লেট পরিষ্কার করা, হারপিক বা গন্ধ নিরোধক দ্রব্যের ব্যবহার নাকরা, টয়লেটের পাইপগুলো ভেঙ্গে গেলেও যথা সময়ে মেরামত নাকরায় উৎকট গন্ধ সহ্য করতে হয় শিক্ষার্থীদের। হলের বিভিন্ন বিভিন্ন জায়গায় বাল্প নষ্ট হলে সে গুলো বার বার বলা শর্তেও ভাল করা হয় না। সব সময়হলেমশারউপদ্রব থাকলেওমশা দমনেরজন্য কোনব্যবস্থা গ্রহণকরা হয় না।হলের এ সকলসমস্যারপিছনেহলপ্রশাসনকেই দায়ীকরছেনসাধারণশিক্ষার্থীরা।
সাহাদত হোসেন নামের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, দায়িত্ব নেয়ারকয়েকবছরেকোনদিনইহলপ্রভোস্ট সাধারণশিক্ষার্থীদেরকাছেএসে শোনেননিহলে কোনসমস্যাআছেকিনা। খুব্ধহয়ে এক শিক্ষার্থী বলেন, হলের ডাইনিং-ক্যান্টিনের শিক্ষার্থীরা কি খেয়ে বেঁচে থাকে সেটা জানার জন্য হল প্রশাসনকে এক দিন ডাইনিংএর খাবার খাওয়ার জন্য অনুরোধ করছি।
এ সকল সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ রফিক-জব্বারহল প্রভোস্ট অধ্যাপক আবু দায়েন বলেন, শুধু এই হলে নয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক হলেই আবাসিক সমস্যা আছে। ডাইনিংএর বিষয়ে বলেন, কেউ যদি পঁচা বাসি খাবার পেয়ে আমাকে অভিযোগ করে তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাথেসাথে ব্যবস্থা নিব।
ক্যান্টিনের বিষয়ে বলেন, এভাবে আর দুইএকটিঅভিযোগ আসলে ক্যান্টিন অন্য কাউকে বরাদ্দ দেয়া হবে।ইমামের বিষয়ে বলেন,বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমান শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরীর বিধান না থাকাই তাকে (খোরশেদ) ইমাম নিয়োগ দেয়া হয়নি। তবে তার বেতন ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকাই উন্নতি করা হয়েছে। এ ছাড়া ফটোকপি সহ অন্যান্য সমস্যার দ্রুত সমাধান কর হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

