ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার শূন্য মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সন্তোষে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারার না থাকায় একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। গত ৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলাউদ্দিনের চার বছর মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদ শূন্য রয়েছে। দীর্ঘ দিন থেকে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারের পদও শূন্য। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দপ্তরগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। দ্রুত ওইসব পদে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, বিগত ২০১৩ সালের ৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিনকে চার বছরের জন্য মাভাবিপ্রবি’র পঞ্চম ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। গত ৩ মে তার মেয়াদ শেষ হয়। এদিকে, ২০১৪ সালের ৩১ মে থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি’র পদটি শূন্য রয়েছে। ফলে উপাচার্যের পদটি শূন্য হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের কেউ থাকছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার ফল প্রকাশ, মূল সনদপত্র উত্তোলন, অর্থ সংক্রান্ত অনুমোদন, একাডেমিক সভা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, বেতন ভাতা ও ঋণ পাস, বিদেশ গমন, বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষা ও গবেষণার কাজে দেশের বাইরে যাওয়ার জন্যে আবেদন করা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী নিবিড় পাল বলেন, আমরা একজন ছাত্রবান্ধব ভাইস চ্যান্সেলর চাই। যিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, গবেষণা, আবাসিক ব্যবস্থাসহ সকল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, আমরা এমন ভাইস চ্যান্সেলর চাই যিনি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করবেন। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে একটি অত্যাধুনিক ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করবেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ভাইস চ্যান্সেলর না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ভিসি বিহীন অবস্থায় চললে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা সংকট তৈরি হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সৎ ও দক্ষ ব্যক্তিকে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দিতে সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর গুরুত্বপূর্ণ পদ দুটি নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য (রাষ্ট্রপতি)।

  •  
  •  
  •  
  •