ইবিতে আবাসন সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী আবাসন সুবিধা পাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের পরিমান কম হওয়ায় এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করতে হচ্ছে তাদের।

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ৭টি হল নির্মিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠা লগ্নে সম্পূর্ণ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা থাকলেও নানা সমস্যায় পড়ে তা হতে পারেনি। ফলে এর ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী আবাসিক সুবিধা পাচ্ছে না। বিশেষ করে বেশির ভাগ ছাত্রীদের এ ভোগান্তির শেষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্রীদের জন্য ৩টি এবং ছাত্রদের জন্য ৪টিসহ একটি নির্মাণধীন আবাসিক হল রয়েছে। আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য মাত্র ২ হাজার ৭৭৫ আসন রয়েছে। যেখানে বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলে ৪ শত ৭৫টি, শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ৪শত, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে ৩৬৪, লালন শাহ হলে ৩শ ৮৮টি আসন রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে একটি দেশিয় এবং একটি আন্তর্জাতিক ব্লক রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্লকের অর্ধেক অংশ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দখলে রয়েছে।

এদিকে বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে ৪শ ৮০ আসনের বিপরীতে ৭শত জন, খালেদা জিয়া হলে ৩শ ৯৮ আসনের বিপরীতে ৭শ ২১জন, শেখ হাসিনা হলে ২শ ৭০ আসনের বিপরীতে ৩শ ৮৭ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এতে কিছু শিক্ষার্থী ডাবলিং এবং বাকিরা গণরুমে থাকেন। ছাত্রীরা তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি লক্ষ রেখে গাদাগাদি করে হলগুলোতে অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনা হলের রোজিনা, শাম্মি এবং ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের সিমা, মাহমুদা অভিযোগ করে বলেন, ‘এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, হলে থাকতে হয় ডাবলিং করে। এতে ঠিকমত পড়াশুনা করা ও একসঙ্গে এক সিটে দুই জন থাকা দুরহ হয়ে পড়েছে।’

খালেদা জিয়া হলের গণরুমের ফাল্গুনী মিত্রা ও রোশনী বলেন, ‘হলে থাকলে নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করা লাগে না। তাই কষ্ট হলেও হলে থাকি। তবে গণরুমে ঠিকমত পড়াশুনা, ঘুম কিছুই হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যেমে আবাসিক সমস্যার সমাধান করেন এটাই আমাদের দাবি।’

এদিকে আবাসিক সুবিধা না থাকায় সিংহভাগ শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে থাকতে হয়। কেউ থাকেন ক্যাম্পাসের আশপাশের এলাকায় মেসে। কেউ বা থাকেন কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ শহরে। তাদেরও দূর্ভোগের শেষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে ক্যাম্পাসে আসতে বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

ক্যাম্পাসের পার্শস্থ শেখ পাড়ার শেখ রাসেল ছাত্রাবাসের সবুজ বলেন, ‘মেসে সমস্যার শেষ নেই। রান্না করে দেওয়ার খালা ঠিকমত আসেনা, বিদ্যুৎ ঠিকমত থাকে না। মেসের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ভাল না। যে কোন সময় মোবাইল, মানি ব্যাগ, শুকাতে দেওয়া কাপড় চুরি হয়ে যায়।’

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের মেসে অবস্থানরত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, ‘বাইরে থেকে ক্যাম্পাসে যেতে প্রতিদিন অতিরিক্ত দুই ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন স্বল্পতা থাকার কারণে বাসে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। এতে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। একই সাথে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। ফলে আমাদের জন্য ঠিকমত পড়াশুনা করা কষ্টকর হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসিক হলের সংখ্যা বৃদ্ধি করলে আমাদের এ ভোগান্তি পোহাতে হবে না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘পরিবহন নির্ভর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট সবচেয়ে বড় সংকট। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পূর্ণ আবাসিকিকরণ ছাড়া এ সমস্যার কোন বিকল্প নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আবাসন সমস্যা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ দিনের একটি সমস্যা। কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যেমে এ সমস্যা নিরসন করতে হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •