বাকৃবি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পড়াশোনা নিয়ে অভিযোগ, বঞ্চিত ছাত্রীরা!
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃৎপিন্ড বলা হয় লাইব্রেরিকে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) প্রতিষ্ঠালগ্নেই গড়ে ওঠে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীটি। লাইব্রেরীটি সপ্তাহে ৫ দিন রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা এবং শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত খোলা থাকে। অন্যদিকে ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলো শীতকালীন সময় অক্টোবর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয়। ফলে শেষের এক ঘন্টা লাইব্রেরিতে থেকে পড়াশোনা করতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রীরা।
তিন তলা ভবনের লাইব্রেরীটির আয়তন ৬৬ হাজার বর্গফুট। লাইব্রেরীতে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন বিভাগের পাঠ্যবই, থিসিস, গবেষণা সাময়িকী, সাহিত্য ও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা মিলিয়ে মোট প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩০৪টি ভল্যুম রয়েছে।
ছাত্রীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ক্লাস চলে। ক্লাস শেষ করে পরের দিনের অ্যাসাইনমেন্ট বা পড়ার কাজে লাইব্রেরিতে যেতে হয়। কিন্তু আমাদের হল ৭টায় বন্ধ হওয়ায় শেষের গুরুত্বপূর্ণ এক ঘন্টাই লাইব্রেরিতে থাকতে পারি না। কাজ শেষ হওয়ার আগেই চলে যেতে হয়। অন্যদিকে ছাত্ররা ঠিকই ওই এক ঘন্টা পড়ার সুযোগ পায়। যদিও কোন দিন একটু দেরি করি ওই দিন প্রক্টরদের তোপের মুখে পড়তে হয়। আবার জরুরী বই গুলো ল্যান্ডিং (শিক্ষকদের মাধ্যমে ৬ মাসের জন্য) না করে শুধু লাইব্রেরি কার্ড দিয়ে তোলা যায় না। ফলে লাইব্রেরিতে থেকেই পড়শোনা করতে হয়।
ভারপ্রাপ্ত লাইব্রেরিয়ান ড. মো. এনামুল হক বলেন, লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডিনেন্স অনুসারে এই সময় সূচিতে লাইব্রেরি চলছে। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
এবিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসানুজ্জামান তালুকদার বলেন, একাডেমিক কাজে এই এক ঘন্টা ছাত্রীদের লাইব্রেরিতে থাকা জরুরী। নিজ নিজ হলের প্রভোস্টদের কাছে আগে থেকে অনুমতি নিয়ে ছাত্রীরা লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করতে পারে। এবিষয়ে প্রভোস্টদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

