শতক পেরলো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
আগেরগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এলেও এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরও দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এনিয়ে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০১টি।

রাজশাহীতে ‘শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটি’ এবং বান্দরবানে ‘বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উ শৈ সিং। তিনি বান্দরবান শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনেরও প্রতিষ্ঠাতা।

অন্যদিকে শাহ মখদুম ম্যানেজমেন্ট ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বি এম শামসুল হক। তিনি সিঙ্গাপুর প্রবাসী বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। দুটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ২৩টি করে শর্তে অস্থায়ীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে কমপক্ষে ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট নিজস্ব বা ভাড়া করা ভবন থাকা; বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ ২১ কিন্তু কমপক্ষে নয় সদস্য বিশিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করতে বলা হয়েছে।

গত ১৮ এপ্রিল সব শেষ খুলনায় খান বাহাদুর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহীতে আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমোদন দেয় সরকার। নতুন অনুমোদন পাওয়া পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি।

স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকার ছয় দফা সময় দিলেও এখন পর্যন্ত ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সম্প্রতি সরকারের কাছে নতুন করে সময় চেয়েছে।

বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি সেগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষা বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মেয়াদে আরও ছয়টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ ‘রওশন এরশাদ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ স্থাপনের আবেদন করেছেন।

জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি এইচ এম গোলাম রেজা সিঙ্গাপুর ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং সংসদ সদস্য শামসুল আলম ভূঁইয়া ‘অ্যাপোলা ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ ‘সাউথ রিজন ইউনিভার্সিটি’ এবং ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম মোশাররফ হুসাইন নামের একজন ‘ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড ইউনিভার্সিটি’ স্থাপনের অনুমোদন চেয়েছেন।

এছাড়া ‘ইউনিভার্সিটি অব অতীশ দীপঙ্কর বজ্রযোগিনী’ স্থাপনের অনুমোদন চেয়ে বাংলাদেশ বৌদ্ধকৃষ্টি প্রচার সংঘের সভাপতি সঙ্ঘনায়ক শুদ্ধানন্দ মহাথেরো মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: