চার বছর থেকে দফায় দফায় আন্দোলন করছে বাকৃবি অফিসার পরিষদ

মো. আরিফুল ইসলাম, বাকৃবি:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কর্মরত কর্মকর্তাদের চাকরির বয়স বৃদ্ধিসহ ৭ দফা দাবিতে গত চার বছর থেকে দফায় দফায় আন্দোলন করে আসছে। বার বার প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করলেও দাবি আদায় না হওয়ায় গত মাস থেকে ফের আন্দোলন শুরু করেছেন তারা। এর আগে বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধন, অর্ধদিবস ও পূর্ণদিবস অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার পরিষদ।

এবিষয়ে একাধিক কমিটি করা হলেও দাবিগুলো সুরাহা করে নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে বার বার আন্দোলনে নামতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অফিসার পরিষদের নের্তৃবৃন্দ। গতকালও সকাল সাড়ে ৯ টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন সংলগ্ন করিডোরে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন অফিসার পরিষদের সদস্যরা।

অফিসার পরিষদের নেতারা জানান, গত ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বেতন স্কেলের সাথে বেশকিছু বৈষম্য দেখা দেয়। সেই সাথে আরও কিছু দাবি নিয়ে ওই বছর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন অফিসার পরিষদের নেতাকর্মীরা। দুইবার তাদের দাবির বিষয়ে খতিয়ে দেখতে কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

২০১৬ সালে কৃষি অনুষদের সীড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর ড. মো. আবুল হোসেনকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে ২০১৭ সালে ভেটেরিনারি অনুষদের সাবেক ডিন প্রফেসর ড. প্রিয় মোহন দাসকে প্রধান করে কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ড. প্রিয় মোহন দাস অবসরে যাওয়ায় বর্তমানে কমিটির প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সচ্চিদানন্দ দাস। তবে এ কমিটি আজও প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটেও বিষয়টি আলোচনা হয়েছে বলে জানান অফিসার পরিষদের নের্তৃবৃন্দ।

তাদের দাবিগুলো হল- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১১ তম সিন্ডিকেটের ২০ নম্বর সিদ্ধান্ত মোতাবেক কর্মকর্তাদের চাকরির বয়স বৃদ্ধির বিষয়টি নিশ্চিত করা, প্রাপ্যতার তারিখ হতে পর্যায়োন্নয়নের কোটা পদ্ধতি বাতিল করে পর্যায়োন্নয়ন কার্যকর, এডিশনাল রেজিস্ট্রার বা তার সমমান পদে অধিষ্ঠিত কর্মকর্তাদের উচ্চতর গ্রেডের স্কেল প্রদান, শাখা প্রধানদের স্কেল সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, প্রজ্ঞাপন মোতাবেক চাকরিতে যোগদানের সময় টেকনিক্যাল ডিগ্রিধারীদের একটি অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট প্রদান, বাসা বরাদ্দের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এর ১২ নম্বর ধারার পূর্ণ বাস্তবায়ন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট ধারানুযায়ী কর্মকর্তা কর্মচারীদের কারো চাকরি অপরিহার্য মনে করলে কর্তৃপক্ষ তাদের চাকরির বয়সসীমা ২+২+১ বছর করে ৬৫ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে পারবেন। তবে গত ১৬ আগস্টে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ৮ জন কর্মকর্তার চাকরির বয়সসীমা ৬ মাস বর্ধিত করা হয় যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালার পরিপন্থী।

এ বিষয়ে অফিসার পরিষদের সভাপতি আরীফ জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ী ওই ৮ জন কর্মকর্তার বয়সসীমা ২ বছর বৃদ্ধি করার দাবি জানাচ্ছি। আমাদের ৭ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করব। দ্রুত দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুমকি দেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আলী আকবরের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে তাকে বার বার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: