রাবির ‘আবু ভাই’ আর নেই!
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে মধুর ক্যান্টিন যেমন এক আবেগের নাম তেমনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে আবুর ক্যান্টিনও এক আবেগের নাম। রাবি ক্যাম্পাসের প্রিয়মুখ আবুর ক্যান্টিনের সেই ‘আবু ভাই’ আর নেই। শুক্রবার সকালে নগরীর মতিহার থানার হনুফার মোড় এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি পরলোক গমন করেন (ইন্নাইল্লাহি…রাজিউন)। এদিন বাদ আছর তাঁর নামাজের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
আবু ভাই (আবু মুহম্মদ) দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস, এ্যাজমা, হাইপ্রেসার, কিডনি অসুখসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় সর্বশেষ ১১ দিন ধরে তিনি ইসলামী ব্যাংক মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল আন্দোলনে যুক্ত শিক্ষার্থীদের আড্ডা আর বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহৃত হত তাঁর মালিকানার ‘আবুর ক্যান্টিন। সত্তরের দশক থেকে চলতি শতাব্দীর প্রথম দিকেও আবু ভাইয়ের এই ক্যান্টিন ছিল গণতান্ত্রিক, সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল সব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। অনেক শিক্ষার্থীর অসময়ের বন্ধু ছিলেন এই ‘আবু ভাই’। তবে জীবন সায়াহ্নে এসে নানা কারণে ও অসুস্থায় পড়ে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন আবু মুহম্মদ। বন্ধও হয়ে গিয়েছিল তার ক্যান্টিন।
মৃত্যুর আগে আবু আহমেদের শেষ ইচ্ছা ছিলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ‘আবুর ক্যান্টিন’ চালু করা। এর জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জায়গা চেয়ে লিখিত আবেদনও করেছিল। কিন্তু প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ক্যান্টিনের জন্য তাঁর পছন্দমত স্থান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন ‘আবু ভাই’।
আবু মুহম্মদের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে রাবির অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীই শোক প্রকাশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৮০ এবং ১৯৯০ দশকের ছাত্র-ছাত্রীদের স্মৃতির এক বলিষ্ঠ উপাদান হলো আবুর ক্যান্টিন এবং এই ক্যান্টিনের পরিচালনক আবু মোহাম্মদ যিনি জনচেতনায় আবু ভাই নামে পরিচিত। যে সময়ের কথা বলছি সেই সময়ের মতিহারের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ছাত্র-রাজনৈতিক আন্দোলনের সূতিকাকার হিসেবে আবুর ক্যান্টিনকে উল্লেখ করলে অতিশয়োক্তি হবে না।’
প্রসেজিৎ নামের মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এত দোকান ছিল না। ১৯৬৪ থেকে আবুর ক্যান্টিন ছিল জনপ্রিয়। রাজনীতি, সংস্কৃতি কর্মী, সাংবাদিকসহ সবারই আড্ডাখানা ছিল আবুর ক্যান্টিন। মুক্তচর্চা, মুক্তবুদ্ধিরচর্চা হত এই একটা দোকানে। একটা দোকানে এলেই খুঁজে পাওয়া যেত সবাইকে। উপারে ভালো থাকুক আবু ভাই।’

