ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ত্ব: মৃত্যুমুখে নির্বাচিতা
মোঃ রিফাত মেহেদী, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
ছিনতাই-এর কবল থেকে মুক্তি পায়নি সাভারের গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজে ১৬ তম ব্যাচের ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থী নির্বাচিতা রহমান আশা।
গত ৩০ জানুয়ারি মেডিসিনের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করে দুপুর ১২টার সময় রিক্সায় করে নবীনগরের নিরিবিলিতে বাসায় ফিরছিলেন। ঠিক এ সময় ছিনতাইকারীরা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মটর সাইকেল থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান মারে। ভ্যানিটি ব্যাগ হাতে আটকে গেলে রাস্তায় পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এই নিয়ে ৩য় বার ছিনতাই এর শিকার হয়েছেন যা অন্যান্য সময়ের থেকে ভয়ানক।
ঘটনার পর তাকে গণস্বাস্থ্য সমাজ ভিত্তিক মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হলে তার অবস্থার অবনতি দেখে বর্তমানে রাজধানী ঢাকার আগারগাও এ National Institute of Neurosciences & Hospital এ ভর্তি করা হয়। মস্তিষ্কে অপারেশন শেষে বর্তমানে ICU তে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। সাভারের আশুলিয়া থানার বাইশ মাইল থেকে নবীনগর পর্যন্ত সন্ধ্যার পর ছিনতাই-এর আতঙ্কে চলাচল করা দায় হয়ে দাড়িয়েছে বর্তমানে।
গণস্বাস্থ সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির পরিমাণ তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি, যা গা সিউরে উঠার মত বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময় গত ৫ মাসে এ পর্যন্ত ১০ থেকে ১৫ টি ছিনতাই-এর ঘটনা ঘটেছে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে। এছাড়া ও এম বি বিএস এর ১৬ তম ব্যাচ এর প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই এর কবলে পরেছেন।
এছাড়া ও এলাকার স্থানীয় লোকজনও প্রতিনিয়ত ব্যাপকভাবে ছিনতাই-এর স্বীকার হন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম ব্যাবস্থা গ্রহন করলেও রোধ করতে পারেনি ছিনতাইকারীদের।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের এই জনবহুল অংশে এ বিষয়ে নেই কোন প্রশাসনিক তোড়জোড়। হাইওয়ে পুলিশের টহল থাকলেও আজ পর্যন্ত পুলিশ কিংবা র্যাএব কোন ছিনতাইকারীকে আটক করতে পারে নি। দিতে পারেনি কোন প্রকার নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা। যদিও বাইশ মাইল এলাকায় র্যাব-৪ এর ক্যাম্প রয়েছে যা ছিল পূর্বেও নিরিবিলি এলাকায় ছিল।
এ নিয়ে সংবাদপত্রগুলোতে পূর্বেও সংবাদ প্রকাশিত হলেও কোন প্রকার আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় নি। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন এখানে যে কোন সময়ে ধর্ষণের মত ঘৃণ্য ঘটনা ঘটতে পারে।

