রাবির আইন বিভাগে পরীক্ষা দিতে পারছে না অর্ধশত শিক্ষার্থী!
আসাদুজ্জামান রিফাত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের প্রথম বর্ষের অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী ডিসকলেজিয়েট হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। এতে করে আগামীকাল সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত পরীক্ষা শুরু হলেও এতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না বলে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন প্রথম বর্ষের প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী।
এদিকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ও পরীক্ষার সময় পরিবর্তনের দাবিতে রোবাবার বেলা ১২টা থেকে বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। অবস্থান কর্মসূচির সাথে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। যাদের আগামী ১৫ মার্চ চূড়ান্ত পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ দেওয়া আছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৩’ এর অধ্যাদেশ অনুযায়ি জানা যায়, চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ৭৫ শতাংশ ক্লাশে উপস্থিত থাকতে হয়। যদি কোনো কারণে একজন শিক্ষার্থী ক্লাশে ৬০ শতাংশ উপস্থিত থাকে তাহলে জরিমানা প্রদান সাপেক্ষে পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ‘এর আগে আমাদের বিভাগে ৬০ শতাংশের অনেক কম উপস্থিতি থাকলেও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বছর হঠাৎ করেই কোন রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই ক্লাশে ৬০ শতাংশের কম উপস্থিতি আছে এমন শিক্ষার্থীদের ডিসকলেজিয়েট করে তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ বাতিল করা হয়েছে। এতে ৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। বিভাগে সভাপতি পরিবর্তন হওয়ায় এমনটি হয়েছে বলেও জানান তারা।
তারা আরো বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত পরিমান ক্লাশ উপস্থিতি না থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হবে না, এমনটি ক্লাশ শুরুর আগে জানানো হতো তাহলে কোন সমস্যা হতো না। এবারের মতো আমাদের সুযোগ দেওয়া হোক। আগামীতে বিভাগের দেওয়া শর্ত পূরণ করবো বলেও জানান তারা।
গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ। তিনি বলেন, ‘প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীরা ক্লাশের প্রতি অমনোযোগী ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের ক্লাশের অনুপস্থিতির বিষটি জানতে পেরে আমি ও বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে তাদের বেশ করেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। যদি তারা তখন থেকেও পুরোপুরি ক্লাশ করতো তাহলে ডিসকলিজিয়েট হতো না। কিন্তু তারা শিক্ষকদের বারবার ক্লাশে উপস্থিত থাকার তাগিদ উপেক্ষা করে।’
তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ি কমপক্ষে ৬০ শতাংশ উপস্থিতি থাকলে জারিমানা প্রদান সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয়। কিন্তু তারা সে শর্ত পুরণ করতে অসমর্থ হয়। পরে ত্রুটি মার্জনা সাপেক্ষে ৫ শতাংশ কমিয়ে ৫৫ শতাংশ উপস্থিত থাকা সাপেক্ষে পরীক্ষায় অংশগ্রহনের অনুমতি দেয়া হয় বিভাগ থেকে। তারপরও ৫১ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিত কম থাকায় তারা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। কয়েকজন শিক্ষার্থীর ৪ শতাংশ উপস্থিতি আছে বলেও জানান তিনি।
তাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে কিভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছিল কিংবা আদৌ সুযোগ দেয়া হয়েছিল কিনা তাও জানি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুসরণ করে ৬০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত যাদের উপস্থিতি ছিল তাদেরও পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভাগের পক্ষ থেকে কিছুই করার নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির সাথে আলোচনা করেছি। সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে পারে। কিন্তু বিভাগ একাডেমিক সিদ্ধান্তের বাহিরে যাবে না।’
বিষয়টি অবগত আছেন উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুযায়ি ক্লাশে উপস্থিতির ভিত্তিতে কলেজিয়েট ও নন-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার অংশগ্রহণ করতে দেয়া না দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের আওতাধীন। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশানের কিছুই করার নেই।’

