রাবির বাসের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ছাত্রীদের আন্দোলন

আাসাদুজ্জামান রিফাত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা প্রায় সমান। কিন্তু তারপরও ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের বাসের সংখ্যা অনেক কম। ছাত্রীদের বাসগুলোতে এমনভাবে আমাদের আসা-যাওয়া করতে হয় যেনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদেরকে মানুষ মনে করেন না।

এভাবেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজার রুটের বাসে আসতে বিভিন্ন সমস্যার কথা বলছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন ছাত্রী। আমরা যেভাবে বাসে যাওয়া আসা তাতে জীবনের অনেক ঝুকি থাকে। তাই আমাদের বাজার রুটে বাস বাড়ানোর জন্য প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানাচ্ছি।

বুধবার দুপুর ১২ টা ১৫ মিনিটের দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ডে এই কথাগুলো বলছিলেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছূক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসষ্টান্ডে গিয়ে দেখা যায়, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিএন্ডবিগামী একটি বাসে গাদাগাদী করে বাসের ভিতর ওঠার চেষ্টা করছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু ছাত্রীর সুযোগ মেলেনি বাসে যাওয়ার। একপর্যায়ে বেশ কিছু ছাত্রী বাস থেকে নেমে আসে এবং বাস থামিয়ে এই রুটে আর একটি বাস বাড়ানোর জন্য তারা আন্দোলন করতে থাকে।

এই ঘটনায় পর বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অন্য আর একটি বাস দিতে বাধ্য হয়।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন প্রমা বলেন, আমরা আজকের এই বাসের জন্য সন্তুষ্ট নয়। আমাদের জন্য স্থায়ী আরও একটি বাস বাড়াতে হবে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে বাসে বাঁদুড়-ঝোলা হয়ে যাতায়াত করা মেয়েদের জন্য আরো বেশি সমস্যা। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের জীবনে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে যে কোনো সময়। প্রমার সঙ্গে কথা মিলিয়ে অনেক শিক্ষার্থী বলেন একই কথা। এই রুটে আরোও একটি বাস বাড়ানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোড় দাবি জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যারয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ৩৮টি বাস রয়েছে। তার মধ্যে নিয়মিত বিভিন্ন রুটে চলাচল করে ২৮ টি বাস। আর ৪টি একেবারে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। আর বাকিগুলো অনকে পুরাতন হওয়ায় প্রায় নষ্ট হয়ে বাসস্ট্যান্ডে পড়ে আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক মোহা. মাইনুল হক বলেন, শিক্ষার্থী যে দাবি করছে তা এই পরিস্তিতিতে সমাধান করা সম্ভব নয়। তিনি এই সমস্যার জন্য দায়ী করেন পরিবহণে জনশক্তির অভাবকে। তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন ৫৭ জন ড্রাইভার প্রয়োজন, কিন্তু আছে ৩০ জন। ৬০ জন হেল্পার প্রয়োজন; আছে ৩২ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ছাদেকুল আরেফিন বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি পরিবহন প্রশাসকের সাথে কথা বলবো দেখছি কি করা যায়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, ‘আমি এই সমস্যাটি জানতাম না। পরিবহন দপ্তর থেকে আমাকে জানানো হলো আমি সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা করবো।’

  •  
  •  
  •  
  •