বাকৃবিতে ১ জুলাই থেকে পরীক্ষা, শিক্ষার্থীরা যেসব প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন

BAU

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহামারী করোনাভাইরাসের প্রকোপ না কমায় দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে দেশের সকল পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন পরীক্ষা অনলাইনের পাশাপাশি সশরীরে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

ইউজিসির এমন নির্দেশনার পর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো গ্রহণের নোটিশ দেওয়া শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্টোবর-মার্চ ২০২১ সেমিস্টারের এম. এস. কোর্সের ছাত্র-ছাত্রীদের ফাইনাল পরীক্ষা আগামী ১-১৫ জুলাই এর মধ্যে শেষ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা আরও দ্বিধায় পড়েছেন। এ বিষয়ে সবুজ বাংলাদেশ 24 ডট কমের সাথে কয়েকজন শিক্ষার্থীর কথা হয়। তারা বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। যেমনঃ

করোনা সংক্রমণ বাড়ছেঃ

মে, ২০২১ এর শেষে দেশে দৈনিক করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা একটু কমলেও জুন থেকে তা আবার উর্ধ্বমুখী। বর্তমানে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এমন অবস্থাকে পাশ কাটিয়ে যদি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া হয় তবে বিগত দেড় বছর ক্যাম্পাস বন্ধ রাখা অর্থহীন।

সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহঃ

দেশের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকায় করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে, এসব এলাকায় করোনা সংক্রমণের হার অনেক বেশি। ফলে প্রশাসন এসব এলাকায় কঠোর লকডাউন দিতে বাধ্য হয়েছে। বাকৃবির অনেক শিক্ষার্থী এসব এলাকায় বাস করেন। হঠাৎ ক্যাম্পাসে সশরীরে পরীক্ষা নেওয়া হলে তারা কিভাবে আসবেন সেটাও একটি বড় প্রশ্ন। স্বাভাবিক গাড়িভাড়ার তুলনায় দ্বিগুণ বা তিনগুণ ভাড়া দিয়ে আসার পরে পরীক্ষা স্থগিত হবে না এমন নিশ্চয়তাও নেই বলে তারা জানান। কারণ হিসেবে হাবিপ্রবির কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, করোনা সংক্রমণ বেড়ে গেলে বাকৃবিতেও পরীক্ষা স্থগিত হতে পারে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা করোনার বাহক হিসেবে আসবেন না এর গ্যারান্টি কী?

বিভিন্ন এলাকা থেকে যখন শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য ক্যাম্পাসে আসবেন তখন তাদের দেহে করোনার জীবানু নেই এর নিশ্চয়তা কি? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে কি এমন কোন পরীক্ষা করে তাদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? হঠাৎ যদি কারো মধ্যে করোনার বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় তাহলে জরুরি আইসোলেশন বা চিকিৎসার ব্যবস্থা বিশ্ববিদ্যালয় দিতে পারবে? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি না হয় তবে কিসের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় এত বড় ঝুঁকি নিচ্ছে? প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের।

মাঝপথে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে না তো?

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় হাবিপ্রবিতে চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তাই বাকৃবিতেও এমন হবে না এর গ্যারান্টি কী? যদি এত ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পাসে আসার পরে পরীক্ষা স্থগিত করা হয় তাহলে এতজন শিক্ষার্থীর ফেরার ব্যাপারটিও কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত।

তবে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেওয়ার পক্ষে অনেক শিক্ষার্থী। তাদের মতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে পরীক্ষাগুলো নিয়ে নেওয়া উচিত। তবে এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই নিতে হবে এবং যতদ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,