বাকৃবিতে অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনকারী বাউ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট হাঁসের ওপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনকারী বাউ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট হাঁসের ওপর কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

পশুপ্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোঃ রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশুপালন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. একে ফজলুল হক ভুঁইয়া এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আবু হাদী নুর আলী খান।

স্বাগত বক্তব্যে গবেষণা প্রকল্পের সহযোগী গবেষক প্রফেসর ড. মোঃ শওকত আলী বলেন, অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতিতে পেকিন জাতের হাঁসের উৎপাদনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতা অনেকটা কম পরিলক্ষিত হলেও বাউ ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট হাঁসের ক্ষেত্রে তার উল্টো ফলাফল পরিলক্ষিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য বলেন, বাংলাদেশে পোল্ট্রিতে অনেক বেশি গবেষণা হচ্ছে এবং হাঁস বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৃষি পণ্য। হাঁস নিয়ে সকল গবেষণার ফলাফলকে মাঠ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। তাহলে খামারিরা লাভবান হবে এবং তাদের মাধ্যমে দেশ লাভবান হবে। তিনি মাইক্রোস্যাটেলাইট মার্কারের মাধ্যমে হাঁসের জেনেটিক প্রোফাইল নির্ণয় করার প্রক্রিয়াকেও উৎসাহিত করেন।

সংশ্লিষ্ট সকলকে সাথে নিয়ে এ গবেষণা তরান্বিত করে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পশুপালন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. একে ফজলুল হক ভুঁইয়া বলেন, পিকিন ও নাগেশ্বরী উভয় ব্রিডকে সংরক্ষণ করার পাশাপাশি তাদের সংকরায়নের ফলে যে জাত উদ্ভাবন হয়েছে সেটিও সংরক্ষণ করে কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর  (ডিএলএস) এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটকে (বিএলআরআই) একসাথে কাজ করে যেতে হবে।

বাউরেসের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আবু হাদী নুর আলী খান বলেন, হাঁসকে বদ্ধ অবস্থায় পালন করা অত্যন্ত ব্যায়বহুল। কিন্তু মুক্ত অবস্থায় ছেড়ে দিলে তাদের ব্রিড কন্ট্রোল করা সম্ভব না, তারা ন্যাচারাল ব্রিড করবে ফলে সেখানে ক্রস ব্রিড আর থাকবে না। এদুটো বিষয়ে গবেষকদের গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানান তিনি।

গবেষকদলের প্রধান পশুপ্রজনন ও কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সামছুল আলম ভূঁঞা বলেন, নতুন এই হাঁসের জাতটি অধিক মাংস ও ডিম উৎপাদনে সক্ষম। ১০-১২ সপ্তাহ বয়সে এর দৈহিক ওজন ২.২-২.৪ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং বার্ষিক ডিম উৎপাদন ২৫০-২৬০ টি। মাংস উৎপাদন ক্ষমতা আমদানীকৃত পেকিন জাতের প্রায় সমকক্ষ। দেশীজাতের সাথে সংকরায়নের ফলে উদ্ভাবিত হাঁসটি আমাদের দেশের জলবায়ূ ও আবহাওয়া উপযোগী এবং রোগবালাই অনেক কম। হাঁসের মাংসের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় সংকরজাত যা প্রাণিজ প্রোটিনের চাহিদা লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিএলএস ও বিএলআরআই এর গবেষকবৃন্দ এবং পশুপালন অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: , ,