বাকৃবিতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে চুরি, সাইকেল চোর চক্রের সদস্য আটক

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে চুরি। গত কয়েকমাসে ক্যাম্পাস থেকে বিশের অধিক সাইকেল এবং গ্রীলের পাঁচটি তালা কেটে মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার সবুজ বাংলাদেশ 24 ডট কমের সম্পাদক ড. মোঃ সহিদুজ্জামানের বাসার সামনে থেকে একটি সাইকেল চুরি হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সেই সময়ে দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মীকে অভিযুক্ত করে নিরাপত্তা প্রশাসনকে চাপ দিলে তিনদিনের মাথায় কেওয়াটখালী মধ্যপাড়া থেকে ২ চোরকে আটক করে সেই নিরাপত্তা কর্মী।

তবে ২ চোরের মধ্যে একজন পালিয়ে গেলে অন্যজনকে প্রধান নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে আসা হয়। এসময় প্রফেসর ড. সহিদুজ্জামানের উপস্থিততে সেই চোরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে চুরির দায় স্বীকার করে নেয়। পরে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা থেকে পুলিশ এসে চোরের সহযোগিতায় তৎক্ষনাৎ একটি সাইকেল ময়নার মোড় এলাকায় আসলামের গ্যারেজ থেকে উদ্ধার করা হয়।

বাকৃবিতে দিনদিন চুরির ঘটনা বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে নিরাপত্তা শাখায় কর্মরত কর্মকর্তারা পর্যাপ্ত জনবল ও প্রযুক্তির অভাবকে দায়ী করেন। সিসিটিভি কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা মোঃ আব্দুল মতিনের দেওয়া তথ্যমতে বর্তমানে বাকৃবি ক্যাম্পাসে মোট ৭৯ টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে যার মধ্যে ২৩ টি নষ্ট। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাসে মাত্র ১৮ টি নাইট ভিশন ক্যামেরা রয়েছে, এর মধ্যেও কয়েকটি নষ্ট। এছাড়া ছোট একটি রুমে ১২০০ একরের জন্য একটি মাত্র মনিটর রয়েছে যা নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য অপর্যাপ্ত। নেই এ কাজে নির্দিষ্ট কোন স্থায়ী জনবল।

BAU

এছাড়া আটককৃত চোরদের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়াকেও অনেকে চুরি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মীরা অনেকে জানান, আজ আটককৃত চোরের নাম রাসেল ও আলিফ। তারা কেওয়াটখালি এবং ক্যাম্পাসে চুরির ঘটনায় এর আগেও একাধিকবার আটক হয়েছে কিন্তু কয়েকদিন শাস্তির পর বের হয়ে তারা আবার একই কাজ করা শুরু করে।

আটককৃত চোর চক্রের সদস্য রাসেলকে প্রধান নিরাপত্তা অফিসে আনা হলে তৎক্ষনাৎ নিরাপত্তা কাউন্সিলের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মোক্তার হোসেন এবং বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এ.কে.এম জাকির হোসেন উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সকল নিরাপত্তা কর্মীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ মোক্তার হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তার সবই আমরা নেব। আশা করি আমাদের জনবল ও প্রযুক্তিগত যেসব সীমাবদ্ধতা ছিলো শীগ্রই সেসব কাটিয়ে সবাইকে নিরাপদ ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারব।

বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এ.কে.এম. জাকির হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আমাদের শ্রদ্ধেয় উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান ইতিমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছেন। আশা করি শীগ্রই পুরো বাকৃবি সিসিটিভির আওতায় আসবে এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,