ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে বাংলাদেশ

রোহান ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের সাবেক ডীন এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বাকৃবির পশুপালন অনুষদের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দের আয়োজনে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনকে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান, সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলী আকবর, সাবেক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ জসীমউদ্দিন খান, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন।

আরও উপস্থিত ছিলেন পশুপালন অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এ.কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মোঃ নুরুল ইসলাম ও মহাসচিব ড.অসীম কুমার দাসসহ আরও অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের জীবন বৃত্তান্ত ও কর্মকান্ড তুলে ধরেন ড. এম.এ.এম ইয়াহিয়া খন্দকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ড. মোঃ মনিরুজ্জামান।

এ সময় বাকৃবি উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন এক বর্ণাঢ্য কর্মজীবন অবিবাহিত করেছেন। পশুপালন অনুষদ সহ অন্যান্য সকল অনুষদের ছাত্র-শিক্ষকের কাছে তিনি একজন পরিচিত মুখ এবং শ্রদ্ধার পাত্র। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি দেশের জন্য লড়েছেন পরবর্তীতে দেশকে এগিয়ে নিতে লড়ে গেছেন। তার অবদান সকলে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

উল্লেখ্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন ১৯৫৩ সালের ১ মে টাঙ্গাইলের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদে ভর্তি হন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করে গৌরবময় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৩ সালে ১ম বিভাগে ১ম হয়ে ব্যাচেলর অফ এনিমেল হাজবেন্ড্রি ডিগ্রি এবং ১৯৭৫ সালে মাস্টার্স অফ এনিমেল ব্রিডিং এন্ড জেনেটিক্স বিভাগে ১ম স্থান অধিকার করে ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭৫ সালেই তিনি পশুপ্রজনন এবং কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি এবং ২০০১ সালে পোস্ট ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ৬৬ টি জার্নাল আর্টিকেল, ৩৯ কনফারেন্স আর্টিকেল প্রকাশ করেছেন। এছাড়া তিনি দুটি বইও রচনা করেছেন।

ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে বাংলাদেশ এনিমেল হাজবেন্ড্রি এসোসিয়েশন সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি ফর এনিমেল প্রোডাকশন এডুকেশন এন্ড রিসার্চ এর প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ও সভাপতি, গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের তিনবারের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জার্নাল অফ এনিমেল সাইন্স, বাংলাদেশ এনিমেল ব্রিডারস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হার্ট ফাউন্ডেশন, কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশের সদস্য ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সকল স্থাপনা স্থাপন ও সংস্কারে তিনি সর্বদা সম্পৃক্ত থেকেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে বাকৃবি চত্বরে গঠিত গণজাগরণ মঞ্চের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিক্ষা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিস্তারের উদ্দেশ্যে ১৯৯৫ সালে ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়।

২০০৮ সালে তিনি পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২২ টি নতুন বিভাগ এবং ৪ টি নতুন অনুষদ প্রতিষ্ঠা করেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল ছিলেন ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন। ১৯৭১ সালে দেশের প্রয়োজনে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধে। এরপর যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেন তখন নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন দেশের উন্নতির জন্য কিছু করার। বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন দেশের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নে। তার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের সকল অবদান বাংলাদেশ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,