বাকবিতে ইউএন ফুড সিস্টেম সামিট -২০২১ মুক্তসংলাপ অনুষ্ঠিত
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ
দেশে কার্যকরী ও স্থিতিশীল খাদ্যব্যবস্থা অর্জনের জন্য গবেষণা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের সুযোগের উপর ইউএন ফুড সিস্টেম সামিট -২০২১ মুক্তসংলাপের জন্য একটি ভার্চুয়াল সভা আয়োজিত হয়েছে। ৯ সেপ্টেম্বর সভাটি যৌথভাবে আয়োজন করেছে ডিপার্টমেন্ট অফ ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড রুরাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশন। সংলাপে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান।
ফুড টেকনোলজি এন্ড গ্রমীন শিল্প বিভাগের প্রধান পলি কর্মকার এর সভাপতিত্বে উক্ত মুক্তসংলাপে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর ড. বোরহান উদ্দিন এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন পটুয়াখালী সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির সাবেক ভাইস-চ্যান্সেলর এবং জার্মান ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ এর ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শামস-উদ-দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফুড সেফটি অথরিটি এর সদস্য প্রফেসর ড. মো: আব্দুল আলীম এবং স্মল ফারমারস ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশানের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ জাকির হোসেন আকন্দ।
প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বলেন, ফুড সিকিউরিটিতে আমাদের সফলতা রয়েছে কিন্তু নিউট্রিশানের ক্ষেত্রে আমাদের আরও সফলতা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে আমাদের আরও জোরালো নজর দিতে হবে। জিএআইএন এর সাথে বাকৃবি যে কাজ করছে তার পরিধিকে যদি আরো বৃদ্ধি করা বা বাড়ানো যায় তবে দেশের প্রান্তিক গ্রাম বাংলার কৃষক-শ্রমিক সমাজের মানুষ বেশ উপকৃত হবে। দারিদ্র্যসীমার ক্ষেত্রে আজকে কোভিড সিচুয়েশানে আমরা যতটুকু পিছিয়েছি যদি আমরা সবাই মিলে একটু চেষ্টা করি তবে আমার বিশ্বাস খুব দ্রুতই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব। নিরাপদ খাদ্য পেতে আমাদের কি কি প্যারামিটার দরকার এ ব্যাপারে আমাদের আরও বেশি কাজ করতে হবে। তিনি আরোও বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরও খাদ্য ঘাটতি পূরণে বাকৃবি গ্র্যাজুয়েটদের অবদান অনস্বীকার্য। যেখানে গতানুগতিক ফুড প্রসেসিং এর কারণে আমাদের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত খাদ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেখানে আধুনিক ফুড প্রসেসিং এর কোন অল্টারনেটিভ নেই।
প্রফেসর ড. মোঃ শামস-উদ-দিন বলেন, আমাদের দেশে ফসল তোলার পরের প্রক্রিয়াতেই প্রায় ০.৫% থেকে ৩৫% পর্যন্ত খাদ্যশস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা নষ্ট হয়ে যায়। যা দিয়ে প্রায় সোয়া চার কোটি মানুষের খাদ্য ঘাটতি পূরণ হয়। তিনি আরও বলেন, খাদ্য চাহিদা এবং পর্যাপ্ত যোগানের দৈরত্ব সমাধানের পূর্ব শর্ত হচ্ছে নতুন উদ্ভাবন এবং টেকসই প্রযুক্তি।
মুক্তসংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রুভড নিউট্রিশান (জিএআইএন) এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. রুদাবা খন্দকারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের র্কমর্কতা, বিভিন্ন এনজিও ব্যাক্তিত্বসহ অনেক গুনীজন।

