সমন্বিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় সিলেকশন পদ্ধতি বাতিল চায় শিক্ষার্থীরা
শিক্ষা ডেস্কঃ ইন্জিনিয়ারিং ও মেডিক্যাল এর মতোই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া অনেকের কাছে স্বপ্নের মত। কৃষির ক্যারিয়ার অত্যন্ত উচ্চ ও সম্ভাবনাময়। তাই অনেক শিক্ষার্থী কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চায়। কিন্তু সকলের স্বপ্নে বাধা হয়ে দাড়ায় ভর্তি পরীক্ষায় সিলেকশন পদ্ধতি।
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার পরে হয়।অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এসএসসি ও এইচএসসির নম্বরের ভিত্তিতে সিলেকশন করলেও তাদের সিলেকশন অনেক বেশি।
পূর্বে যেখানে সাতটি কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেত , সেখানে মাত্র ৩৫ হাজার ৫৫৫ জনকে (মোট আসনের ১০ গুণ) সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন আবেদনকৃত যোগ্য ভর্তি-ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের আবেদন ফি নিয়ে তাঁদের নৈতিকভাবে বঞ্চিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে ১০ গুণ শিক্ষার্থীকে ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে কমপক্ষে জিপিএ-৯ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ ভর্তি-ইচ্ছুকদের আবেদনের যোগ্যতা কঠিন হওয়ায় বাকৃবি ছাড়া অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অপেক্ষাকৃত কম জিপিএ নিয়ে কৃষিবিদ হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
উপরন্তু যে সমস্যাটি দেখা দেবে তা হলো, সামনের সারির (৯ বা ততোধিক) এসব শিক্ষার্থী ওই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাথমিকভাবে ভর্তি হলেও তাদের অধিকাংশের অন্যত্র ভালো কোথাও চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে, ফলে আসনসংখ্যা খালি থেকে যাবে। যেখানে দেশে উচ্চশিক্ষায় আসনসংখ্যা সীমিত, সেখানে গুচ্ছপদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির এমন সিদ্ধান্তের কারণে অনেকেই উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, যা নিঃসন্দেহে অনাকাঙ্ক্ষিত এবং রাষ্ট্রীয় অপচয়ের শামিল।
এ কারণে কৃষি ভর্তি পরীক্ষা শেষে হওয়ায় অনেকেই পরীক্ষা দেয় না। গতবছর মাত্র ২৪ হাজার ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছে। এবার করোনার জন্য ও বিভিন্ন কারণে সেই সংখ্যা আরো কমতে পারে।
সীট প্রতি এত কম পরীক্ষার্থী অন্য কোথাও নেই। এছাড়া এবার গোল্ডেন জিপিএ নিয়েও হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সুযোগই যদি না পায় তবে মেধার প্রতিফলন তারা দেখাবে কিভাবে?
সেজন্য কৃষিতে মাত্র ৩৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গের কারণ। তাই শিক্ষার্থীরা কৃষিতে সিলেকশন পদ্ধতি চায় না ।

