শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে জাবির ৯ শিক্ষকের পদত্যাগ
আবদুল্লাহ আল মামুন নিলয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আ ফ ম কামালউদ্দিন হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে হলের বিভিন্ন পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন উক্ত হলের নয় শিক্ষক।
মঙ্গলবার দুপুরে ক্ষমতাশীন ছাত্রদের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে একযোগে এ পদত্যাগপত্র জমা দেন শিক্ষকরা। এর আগে সকালে হল প্রাধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে ভিসি বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেন ওই হলের শিক্ষার্থীরা। হলের বিভিন্ন পদ থেকে পদত্যাগ কারী শিক্ষকরা হলেন, প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নজিবুর রহমান, ওয়ার্ডেন এ এইচ এম সা’দৎ ও মো: খোরশেদ আলম, আবাসিক শিক্ষক মো: ফখরুল ইসলাম ও মো: মিজানুর রহমান, সহাকরী আবাসিক শিক্ষক মো: তাজউদ্দিন সিকদার, মো: মোজাম্মেল হোসেন,কাজী রাসেল উদ্দিন, সুব্রত বণিক।
পদত্যাগপত্রে শিক্ষকরা উল্লেখ করেন,‘গতকাল সোমবার মধ্যরাতে হলের ক্ষমতাশালী ছাত্রসংগঠনের ছাত্রের নেতৃত্বে ও উস্কানীতে হলের প্রাধ্যক্ষ ও আবাসিক শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অশালীন, কুরুচীপূর্ণ ও চরম অসম্মানজনক ভাষা প্রয়োগে একটি মিছিল বের করে। ফলে একটি চরম ভীতিকর ও নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’
যা করার কারন হিসেবে তারা বলেন,‘প্রধান বাবুর্চি পদে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য দীর্ঘদিন ধরে হল প্রশাসনকে চাপ দিয়ে হল প্রশাসনকে বিভিন্নভাবে হুমকী-ধামকী দেওয়া হচ্ছিল। যার কারণে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অফিসে বসতে না পারা, আবাসিক শিক্ষকগদের হলের কক্ষ পরিদর্শনে বাঁধা দেওয়া, দুই-থেকে তিন বছর আগে শিক্ষাজীবন শেষ হওয়া ছাত্রদের প্রভাবশালী ছাত্রদের প্রশ্রয়ে হলে অবস্থান এবং ধারাবাহিক ভাবে হলের শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগও করা হয় পদত্যাগ পত্রে। এ ব্যাপারে পুরো পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানোর পরও অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় তারা পদত্যাগ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আজ প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তারা ভিসি বরাবর হল প্রাধ্যক্ষের অপসারনের দাবিতে স্বারকলিপিতে উল্লেখ করেন, প্রাধ্যক্ষ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে বাবুর্চি নিয়োগ দিয়ে প্রাধ্যক্ষের বাসার কাজে লাগানো, ডাইনিং ও হলের সামনে খাবারের মান নিম্ন, খাবারের মান নিয়ন্ত্রনে তদারকি না করা, চলতি শিক্ষাবর্ষের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী বরাদ্দ নিয়ে কৃত্রিম আবাসন সংকট তৈরী করা, হলের প্রথম পুনর্মিলনীতে অসহযোগিতা মূলক আচরণ করা, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সরঞ্জাম সরবরাহ না করা, ডাইনিং খুলে না দেওয়া, প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে দেখতে না যাওয়া, মাঠ সংস্কার না করা, শৌচাগারে পানি না থাকা, কল নষ্ট থাকা, লাইট নষ্ট থাকার অভিযোগ করেন তারা।
পদত্যাগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘ শিক্ষকরা পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন, তবে তা গ্রহণ করা হবে কিনা সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়নি। তাদেরকে হল চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছি আমরা, ছাত্রদেরও সহযোগিতা করার অনুরোধ করেছি।’
এ বিষয়ে পদত্যাগী হল প্রশাসনের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক নজিবুর রহমান বলেন, আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি, এখন থেকে হলে আমাদের আর কোন দায়-দায়িত্ব নেই।

