বাকৃবিতে বেপরোয়া যানচলাচলে বেড়েছে দুর্ঘটনা, ঝুঁকিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মহামারী করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে খুলে দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো। স্বাস্থ্য বিধি মেনে নেওয়া হচ্ছে ব্যবহারিক ক্লাস এবং আটকে থাকা পরীক্ষাসমূহ।

করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে বেড়েছিল বহিরাগতদের আনাগোনা। বেপরোয়া যানচলাচলও ছিলো লক্ষ্যণীয়। বর্তমানে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা ফিরলেও অবস্থার পরিবর্তন হয় নি। যার ফলাফল গত দু’দিনে বাকৃবির জব্বারের মোড় এলাকায় দুটি সড়ক দুর্ঘটনা। তবে এর আগেও এখানে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়।

গত ০৬ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে জব্বারের মোড়ে সিনজির সাথে বাইসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন আহত হয়েছেন। পরদিন ৭ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) বিকাল পৌনে পাঁচটার সময়ে জব্বারের মোড়ে প্রাইভেটকারের সাথে অটোর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ পরবর্তী অবস্থায় অটো চালকের ওপর মারধর করেছেন প্রাইভেট কারের মালিক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রাইভেট কারের মালিকের নাম মোফাজ্জল। তিনি ভেটেরিনারি অনুষদের ডীন অফিসের সেকশন অফিসার। অটো চালকের নাম সাদেকুল ইসলাম জুয়েল।

সেকশন অফিসার মোফাজ্জল দাবি করেন, অটো চালক বামপাশ দিয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে তার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। তিনি আরো জানিয়েছেন, এই ঘটনার ফলে রাগান্বিত হয়ে তিনি অটোচালককে একটি চড় মারেন এবং অটোর চাবি কেড়ে নিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। অপরদিকে অটো চালক দাবি করেছেন তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে এবং তিনি এই ঘটনার সঠিক বিচারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবী জানিয়েছেন।

ছবিঃ জব্বারের মোড়

এ ব্যাপারে নিরাপত্তা শাখার প্রধানের দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দীন হাওলাদার জানিয়েছেন, আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘটনাটি বিশ্লেষণ করছি, আশা করছি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করতে পারব।

এদিকে সম্প্রতি বাকৃবির রাস্তাগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ রাস্তার বিটেই কোনো রঙ নেই। শুধু তাই -ই নয়, যেসব রাস্তায় গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, সেই গতিসীমাও মানছেন না কোনো চালক। ফলে বেশ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে চলাচলের জন্য রয়েছে দুটি মূল রাস্তা। দুটি রাস্তাই ময়মনসিংহ শহরে যাতায়াতের সাধারণ রাস্তা হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর-দক্ষিণ এলাকাগুলোকে সংযুক্ত করেছে। এই রাস্তা দুটি দিয়ে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চলাচল করে গণপরিবহন। তবে জব্বারের মোড় হয়ে শেষ মোড়ের রাস্তাটির কিছু অংশের মেরামতে কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় আবাসিক এলাকা ও ছাত্রীদের হলের সামন দিয়ে যে রাস্তাটি (১ নং রাস্তা) রয়েছে সেই রাস্তাটিতে গণপরিবহনের সংখ্যা বেড়ে গেছে।।

এই রাস্তাটিকে ঘিরে রয়েছে ছাত্রীদের চারটি আবাসিক হল, উপাচার্যের বাসভবন, মার্কেট, অডিটরিয়াম, বোটানিকাল গার্ডেন সহ ছাত্রছাত্রীদের বিচরণের মূল জায়গাগুলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকাবাসী এবং প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত এই রাস্তাটি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করছেন। এছাড়া এই রাস্তাটিকে ব্যবহার করে বহিরাগতরা সহজেই ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সংবেদনশীল জাগয়াগুলোতে অবাধে প্রবেশ করতে পারায় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকা থেকে কিছু বহিরাগত যুবক প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেপরোয়া ভাবে মটরসাইকেল চালানোয় অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে বলে প্রতক্ষ্যদর্শী ও নিরাপত্তাকর্মীদের অভিযোগ। এছাড়া ১ নং রাস্তাটিতে অটোরিকশা ও চার্জার রিকশা বেশী চলাচল করায় প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে প্রায়ই।

বাকৃবিতে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভেটেরিনারি অনুষদের প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সহিদুজ্জামান বলেন, বাকৃবির রাস্তাগুলো ছাত্র-শিক্ষক সকলের জন্য নিরাপদ করতে আমি কিছুদিন আগে মাননীয় উপাচার্যের কাছে জব্বারের মোড়ে একটি ট্রাফিক আইল্যান্ড স্থাপন এবং আবাসিক এলাকার ভিতর দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি নিয়ন্ত্রণ করার প্রস্তাব রেখেছি। তিনি বিষয়টি বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,