বাকৃবিতে মেয়েদের হলে প্রবেশের সময়সীমা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক:

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সর্বোচ্চ কৃষি বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়(বাকৃবি)। জ্ঞান-গবেষণার বিস্তৃতিতে বাকৃবি যেন অনন্য। প্রত্যেক বছর-ই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, এমনকি দেশের বাহিরে থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের প্রমান করে, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে বাকৃবিতে আসে। ব্রহ্মপুত্রের পাড় ঘেঁসে- গড়ে উঠা বিশাল ১২০০ এককের মাঝেও শিক্ষার্থীদের গুটিশুটি হয়ে থাকতে হয়। এখানে যারা আসে তাঁদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান- ফলশ্রুতিতে বাহিরে থাকাটাও বেশ ব্যয়-সাপেক্ষ তাদের জন্য। শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের লম্বা একটা সময় গনরুমের দলবদ্ধভাবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেই অতিবাহিত করে। গনরুমে অনেকগুলো শিক্ষার্থী থাকায়- পড়ার পরিবেশ না পাওয়ায় তারা কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে পড়াশোনা করে যা প্রায় রাত ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে,  কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের হলগুলো ৭ টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা যায়।

এজন্য অনেক শিক্ষার্থীরাই দুঃখ প্রকাশ করে মন্তব্য করেছে,” আমাদের প্রয়োজনীয় কাজ (টিউশন করা, রাতের খাবার কেনা, বাহিরের কাজ) করতে করতেই অনেক সময় ৭ টা পার হয়ে যায়। কাজ সেরে হলের গেইটে আসলেই অনেক কথা শুনতে হয় আমাদের যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। এটা অনেকটা নিরাপত্তার জন্য হিংস্র পশুদের খাঁচায় বন্দি না করে, আমাদেরকে খাঁচায় বন্দি করে রাখার চেষ্টা, যা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভীষন লজ্জাজনক।”

শিক্ষার্থী’রা আরো বলেন, ” বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সাফারি পার্ক না, যেখানে হিংস্র প্রাণীরা উন্মুক্ত অবস্থায় থাকবে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়! আমাদের এখানে সেই পুরনো কায়দায় মেয়েদের ঘরে বন্দি রাখার আয়োজন চলে, মেয়েদের দমিয়ে রাখার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তা না হলে লাইব্রেরি যখন বন্ধ হয় ৮ টায়, কোন চিন্তা থেকে মেয়েদের হল ৭ টায় বন্ধ করে! তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রাপ্তবয়স্ক। তাদের উপর কোন অন্যায় হলে সেটা বন্ধের দায়িত্ব কর্তৃপক্ষের। সেটা না করে উল্টো মেয়েদের চলাফেরাকেই সীমাবদ্ধ করে ফেলছে- যা খুবই দুঃখজনক!”

এই ব্যাপারে একজন শিক্ষার্থী জানিয়েছেন,”বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ক্যাম্পাস এরিয়ার মধ্যে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অকারণ মেয়েদের হ্যারাস করা আর ৭ টার মধ্যে তাদের জোরপূর্বক হলে ঢোকাতে চাওয়া তো তাদের কাজ হতে পারেনা। হলে ঢোকার সময়সীমা বাড়ানো উচিৎ।  ছেলেদের হলের জন্যে এক সময় আর মেয়েদের হলের জন্যে আরেক সময় নির্ধারণ মোটেই কাম্য না। হলের বাইরে প্রক্টোরিয়াল বডির এরকম মোরাল পুলিশিংয়েরও নিন্দা জানাই।”

অন্য আরেকজন বলেছেন,”সামনে ক্লাস শুরু হবে। বিকেল পাচটা পর্যন্ত ক্লাস করার পর অনেকেই হলে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে তারপর শহরে বা কোথাও কাজ থাকলে বের হবার সুযোগ কই।।শুক্রবার শহরে যাবে? সেখানে গিয়েই বা কি লাভ।শুক্রবার সব বন্ধ থাকে।  হলে ঢোকার সময় বাড়ানো দরকার।”

আরো একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, “১৫ মিনিট দেরি করলেও এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় যেন ওই টাইম পার হয়ে যাওয়া মানে বিরাট কোনো ক্রাইম করে ফেলা!
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই স্বনামধন্য ক্যাম্পাসের ভেতরে এইটুকু নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না! নিজেরাই ইনসিকিউরিটিতে ভুগে!!”

এরকম অসংখ্য শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন।

বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে অবাধ চলাচল নিয়ে একজন শিক্ষার্থী বলেছেন,”আমাদের ক্যাম্পাস টা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আসলেই কি নিরাপদ নাকি বহিরাগত দের জন্য নিরাপদ?? আর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যদি নিরাপদ না হয় তবে সেই দায়ভার টা কার?? এই ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের চলাচলে যত বাঁধা দেয়া হয়। কিন্তু বহিরাগত রা অবাধে ক্যাম্পাস এ যা খুশি তাই করে বেড়ায়। প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কবে কার্যকরী ব্যবস্থা নেবেন ??”

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজেদের স্বাধীনতা চায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ পরিবেশ চায় যাতে- তাঁদের হিংস্র প্রাণীদের ভয়ে খাঁচায় বন্দী না হতে হয়। প্রত্যেকটা প্রাণই স্বাধীন, সদা উজ্জ্বল। তারাই দিগন্তকে আলোকিত করবে, সেজন্য তাদের সেই পরিবেশ তৈরী করে দেওয়া একটা গুরুদায়িত্ব।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব ক্যাম্পাস এরিয়ার মধ্যে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3