অধিক এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভেড়ার মাংস উৎপাদনঃ বাকৃবিতে গবেষণা সাফল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ঔষধি গাছ ব্যবহারে অধিক এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভেড়ার মাংস উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল মামুন। ভেড়ার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি বিগত দুই দশক যাবৎ গবেষণা করে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি প্লান্টেইন ও রসুনের পাতা ব্যবহার করে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক ভেড়ার উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছেন। এ বিষয়ে তার গবেষণালব্ধ ফলাফল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পুরুষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ভেড়ার খাদ্যে প্লান্টেইন ও রসুনের পাতা ব্যবহারে কেবল ভেড়ার উৎপাদনশীলতাই বৃদ্ধি পায় না বরং মাংসের গুণগত মানও উন্নত হয়। এছাড়া এসব ঔষধি গাছ ব্যবহারের ফলে মাংসের গঠন ও গন্ধের পরিবর্তন হয় বলে গবেষণায় পাওয়া গেছে।
রবিবার ২২ মে, ২০২২ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পশুপালন অনুষদীয় সভাকক্ষে ‘অধিক এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ভেড়ার মাংস উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি ’ শীর্ষক এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম, সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. জাকির হোসেন। এছাড়া প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পশুপালন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এ.কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. খান মোঃ সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পশুপুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল মামুন।
এ বিষয়ে গবেষক ড. মামুন বলেন, এসব ঔষধি গাছ ব্যবহার করে ভেড়ার মাংস উৎপাদনে কম কোলেস্টেরল ও অধিক এইন্টঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ নিরাপদ মাংস উৎপাদন করা সম্ভব। যা কৃষক ও ভোক্তা পর্যায়ে ভেড়ার মাংস জনপ্রিয় করতে সহায়তা করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

গবেষণায় দেখা যায়, এসব ঔষধি গাছ ব্যবহারে ভেড়ার ২০-২৬ শতাংশ শারীরিক বৃদ্ধি, ৫-৭ শতাংশ মাংস উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রক্তে ৭ শতাংশ এন্টিঅক্সিডেন্ট বৃদ্ধি পায়। এছাড়া শরীরের অভ্যান্তরীন চর্বি ২৪ শতাংশ এবং তলপেটের চর্বি ৫৬ শতাংশ কমে যায়। ফলশ্রুতিতে ১৫ শতাংশ কোলেস্টেরল কমে যায় এবং ৩০ শতাংশ পলি আনসেচ্যুরেটেড ফ্যাটি এসিড বৃদ্ধি পায়। এছাড়া ১১-১৪ শতাংশ মিথেন গ্যাস নির্গমন কমে যায়।
পশুপুষ্টি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. রাখী চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএলআরআই এর গবেষক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, পশুপালন অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যবৃন্দ।

