বাকৃবির শিক্ষার্থীর জয়িতা নারীর স্বীকৃতি ও সম্মাননা লাভ

মহিউদ্দিন মখদুমী, নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী সাইন্স অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার রংপুর বিভাগের সেরা জয়িতা নারীর স্বীকৃতি ও সন্মানা পেয়েছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে গত বুধবার দুপুরে রংপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে “নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী” অনুষ্ঠানে বিভাগে জয়িতা নারী হিসেবে সেরা দশে স্থান করে নেওয়ায় তার হাতে সন্মানা সনদ, ক্রেষ্ট ও উত্তরীয় তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত আসনের এমপি হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব এনডিসি নাছিমা জামান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহিন আহমেদ চৌধুরী, রংপুরের জেলার প্রশাসক রাহাত আনোয়ার, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রাজু প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ।

জানা গেছে, তাহমিনা আক্তার রংপুর বিভাগের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার রণচন্ডি গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেকের ৪ ছেলে ৮ মেয়ের মধ্যে ৬ষ্ঠ সন্তান। মেধাবী তাহমিনা আক্তার ক্লাশে বরাবরই প্রথম স্থান অধিকার করতো। অষ্টম শ্রেনীতে অধ্যায়নকালীন সময়ে প্রেমের টানে বিয়ে করে তাহমিনা। কিন্তু নেশা খোর বখাটে স্বামীর বাড়িতে বেশী দিন সুখ মেলেনি তার। কারণে অকারণে স্বামীর নির্যাতন দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রেমের সুখ মুছে যাতে চায় মূহুর্তেই। বিয়ের কয়েক মাসের মাথায় স্বামীর নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে ঢাকায় পালিয়ে গিয়েও আশ্রয় জোটেনি। আবার ফিরে আসতে হয়েছে জাহান্নামের মতো স্বামীর বাড়িতে। বছর পেরিয়ে কোল জুড়ে আলো করে আসে একটি কন্যা সন্তান। কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় স্বামীর নির্যাতনের মাত্রা বাড়ে আরো। এবার সাহস করে বাপের বাড়িতে ফিরে আসে তাহমিনা। পিতার পায়ের কাছে বসে ক্ষমা চায়। পিতা তাকে একটি শর্ত বেঁধে দেন। আবার পড়ালেখা শুরু করতে হবে। পিতার শর্তে রাজি হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানে মাধ্যমে বখাটে স্বামীকে তালাক দেয় সে। নতুন উদ্যোমে শুরু করে লেখা পড়া। নবম শ্রেনীতে ভর্তি হয় তাহমিনা।

পাড়া প্রতিবেশীর কটাক্ষ উপেক্ষা করে পড়ালেখায় মনোযোগী হয় সে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে ২০১০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ওই স্কুল থেকে এক মাত্র জিপিএ-৫ পায় তাহমিনা। চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকায়। কটাক্ষের রুক্ষদ্বার প্রসংসার সুগন্ধে খুলে যায়। শিক্ষার উপমা হয়ে উঠে তাহমিনা।

তেঁতুলিয়া কাজী শাহাবুদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এইচ এসসিতে ভর্তি হয় সে। ২০১২ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে আবারও জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসিতে উত্তীর্ণ হয় তাহমিনা। এরপর উচ্চ শিক্ষার্থে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারী সাইন্স অনষদে ভর্তি হয়। বর্তমানে সে ওই অনষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার কারণে তাকে বিভাগের সেরা দশ জয়িতা নারী হিসেবে স্বীকৃতি ও সন্মানা দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, পাঁচটি ক্ষেত্রে অবদান রাখায় রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৫৮টি উপজেলার ৭শত ৬০জন জয়িতা নারীকে প্রাথমিক ভাবে বাছাই করা হয়। এর পর প্রতিটি জেলা থেকে ৫ জন করে মোট ৪০ জন সেরা জয়িতা নারী নির্বাচন করা হয়। ৪০জন থেকে ১০জনকে বিভাগীয় পর্যায়ে সেরা জয়িতা নারী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: