কৃষির ভর্তি পরীক্ষায় ইলেকট্রিক ডিভাইসসহ আটক, গুচ্ছের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

ড. মোঃ সহিদুজ্জামান:

কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ শনিবার। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সর্বমোট ১০টি কেন্দ্রে ওই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ভর্তি পরীক্ষায় অন্য কোন কেন্দ্রে জালিয়াতির খবর না পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) কেন্দ্রে ইলেকট্রিক ডিভাইসসহ পলাশ চন্দ্র সরকার (২০) নামে এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়সূত্রে জানা যায়, আটককৃত পলাশ চন্দ্র সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি বিদ্যালয়ের ৪ নং কক্ষে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে দায়িত্বরত পরিদর্শক প্রথমে তার কক্ষে একধরণের শব্দ শুনতে পেয়ে সতর্ক হন এবং কড়া নজরদারির মাধ্যমে শব্দের উৎস বুঝে সেই পরীক্ষার্থীকে তল্লাশি করে  ইলেকট্রিক ডিভাইসসহ শিক্ষার্থীটিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন । পরে তাকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়। ডিভাইস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ডিভাইসটি সিমযুক্ত ও মোবাইলের ব্যাটারির মতো দেখতে। পরীক্ষার্থীর কানের ভিতরে লাগানো ছিল ক্ষুদ্র আরেকটি ডিভাইস।

এ ঘটনায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি মামলা দায়ের করে এবং সকল আলামতসহ শিক্ষার্থীটিকে ময়মনসিংহ কোতয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জানা যায়, ওই শিক্ষার্থী যে ডিভাইসটি ব্যবহার করেছে তাতে শুধুমাত্র অপর প্রান্ত থেকে শব্দ আসত। মানে এটি একটি একমূখী ডিভাইস ছিল। কৃষিগুচ্ছে এধরনের সুক্ষ্ম ডিভাইসের ব্যবহারের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর একমূখীভাবে বাহিরে থেকে আসার বিষয়টিকে নিঃসন্দেহে প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস হয়েছে বলা যায়। পাশাপাশি এ ধরণের কাজে যে একটি সিন্ডিকেটে জড়িত থাকতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। বাকৃবিতে এটি হাতেনাতে ধরা পড়লেও এ ধরণের ডিভাইজ যে অন্য কোন কেন্দ্রে ভর্তিচ্ছু অন্য কোন শিক্ষার্থী ব্যবহার করে নাই তা নিশ্চিত করে বলা যাবে না।

কৃষিগুচ্ছে ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী আটকের ঘটনায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, পরীক্ষার্থীটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আগে বা কেন্দ্রে আসার আগে হয়তবা প্রশ্ন পায়নি, যদি পেতো তাহলে পরীক্ষার্থীটি সব প্রশ্নের উত্তর জেনে আসত, ঝুঁকি নিয়ে ডিভাইস ব্যবহার করত না। তাই প্রশ্ন কখন এবং কিভাবে ফাঁস হয়েছে তা নিয়ে চলছে আলোচনা-পর্যালোচনা।

ঘটনাটি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হওয়ার পরপর প্রশ্ন উঠে কৃষিগুচ্ছের স্বচ্ছতা নিয়ে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নিয়ে। যেহেতু ঘটনাটি বাকৃবিতে ঘটেছে সাধারণ মানুষ অনেকেই বিষয়টিকে বাকৃবি কেন্দ্রিক মনে করছেন। এতে বাকৃবির ভাবমূর্তি দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাবমূর্তি এবং ঐতিহ্য হারানোর বিষয়টি সামনে এসেছে। তাই এ ঘটনাটি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত বলে অনেকেই মনে করছেন। ওই ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র জালিয়াতি চক্রে কারা জড়িত এটি খুঁজে বের করা অত্যান্ত জরুরী। ধরা পড়া ছেলেটির কাছ থেকে সুত্র ধরে এবং ব্যবহুত সিম এর নম্বরের কল রেকর্ড থেকে এ চক্রকে খুজে বের করা জটিল কিছু নয়। মামলার অগ্রগতি এবং সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার সাহায্য নিয়ে বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত। তা না হলে কৃষিগুচ্ছের এই কলঙ্ক থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কোনোভাবে রেহাই পাবে না ।

  •  
  •  
  •  
  •