বাকৃবি হোটেল-রেস্টুরেন্টে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার, স্বাস্থ্যবিধির নেই বালাই
নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ খাবার হোটেলে খোলা এবং নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ খাবার হোটেল বা রেস্টুরেন্টগুলোর বাইরের দৃশ্য চকচকে থাকলেও খাবার তৈরির জায়গা দেখলে আঁতকে উঠবেন যে কেউ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে চাকচিক্য পরিবেশে।
সরোজমিনে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জব্বারের মোড়ের অধিকাংশ হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, রানা ঘরের অবস্থা দুর্গন্ধযুক্ত, নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। তারা যে কাচামাল গুলি ব্যাবহার করছে, তা মানসম্মত নয়, পচা, বাসি উপকরণগুলো ব্যবহার করছে। তাদের রান্নার বাসন পত্র নোংরা, অপরিচ্ছন্ন। তারা নিজেদের স্বাস্থ্যবিধিই মানছেন না, অপরিচ্ছন্ন হয়ে রান্না করছেন এবং রান্নার চুলাগুলি একদম রাস্তার সাথে যার কারনে আসেপাশের ধুলাবালি এর মাধ্যমে রান্না করা খাবারগুলো দূষিত হচ্ছে।
তারা পরিমিত পরিমানে খাবার সিদ্ধ না করার দরুন খাবার কাচাই থেকে যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকির ন্যায়। একই তেল কয়েকবার ব্যবহার করছে তারা। রান্না করার অংশে সাধারণত গ্রাহকদের প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। হোটেলের সামনের সাজসজ্জা করা অংশে খাবার খেয়ে বিল পরিশোধ করে বেরিয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, “একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য খাবারের দাম বেশি। তারপরও তারা তা খাচ্ছে তা কোনমতেই স্বাস্থ্যসম্মত নয়।” এসব দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানান তারা।
আসন্ন সমাবর্তনের আগে এসব হোটেলের মান নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব না হলে সারা দেশ থেকে আসা এলামনাই ও অতিথিদের কাছে বাকৃবির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে বলেও জানান অনেক শিক্ষার্থী।
এবিষয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারের সিএমও সাইদুর রহমান জানান, “প্রতিদিনই অনেক শিক্ষার্থী পেট ব্যাথা,গ্যাস্টিক,আলসার,কোষ্ঠ কাঠিন্য, ওজনহ্রাস,ক্ষুদামন্দা,বমি,ডাইরিয়ার মত সমস্যাগুলো নিয়ে আসে। এসবের মূল কারণ তাদের নিয়মিত খাওয়া এসব খাবার।” এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে তারা আরোও জটিল রোগে আক্রান্ত হবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারাসাইটোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. সহিদুজ্জামান জানান, “এ ধরনের হোটেল মালিকরা শিক্ষার্থীদের একদিকে তাদের ভোক্তাঅধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন, অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার দিয়ে স্বাস্থ্য-ঝুঁকিতে ফেলছেন।”
উল্লেখ্য যে, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কয়েকবার অভিযান চালিয়ে হোটেল মালিকদের সতর্ক ও জরিমানা করলেও কোনো লাভ হয়নি।

