কুম্ভমেলাতেই সর্বনাশ হলো ভারতের!

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বেহাল ভারত। প্রতিদিন চার লাখের বেশি আক্রান্ত। মানুষ আতঙ্কিত। ভেঙে পড়েছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। এমন অবস্থায় গত মাসে হিমালয় অঞ্চলের শহর হরিদ্বারে কুম্ভমেলায় লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ হিন্দু সমবেত হয়েছিলেন।

ভারতের অধিকাংশ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করে জানিয়েছিলেন, এই কুম্ভ মেলা এক ‘সুপার-স্প্রেডার ইভেন্ট’ অর্থাৎ করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়ানোর এক বড় অনুষ্ঠানে পরিণত হবে। সেই আশঙ্কাই সত্যি হয়েছে।

ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খবরে জানা গেছে, কুম্ভ মেলা থেকে ফিরে আসা লোকজনকে পরীক্ষা করে কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়ছে এবং তারা সম্ভবত আরও লোকজনের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিয়েছে।

রোগতত্ত্ববিদ ডাঃ ললিত কান্ত বলছেন, “মাস্ক না পরে তীর্থযাত্রীদের বড় বড় দল যখন নদীর তীরে দাঁড়িয়ে গঙ্গার বন্দনা করছে”, তখন আসলে এটি দ্রুত ভাইরাস ছড়ানোর এক আদর্শ পরিবেশ তৈরি করছে। “আমরা জানি যে গির্জায় কিংবা মন্দিরে যখন সমবেত মানুষ এক সঙ্গে কোরাসে গান গায়, সেটি তখন একটি ‘সুপার-স্প্রেডার ইভেন্টে’ পরিণত হয়।”

হরিদ্বারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানে ২,৬৪২ জন তীর্থযাত্রী কোভিড-পজিটিভ বলে ধরা পড়েছিল, যাদের মধ্যে কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতাও ছিলেন।

উত্তর প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব, নেপালের সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ এবং সাবেক রাণী কমল শাহ এই কুম্ভমেলা থেকে ফিরে আসার পর পরীক্ষা করে তারাও কোভিডে আক্রান্ত বলে জানা গেছে।

বলিউডের সঙ্গীত পরিচালক শ্রাবণ রাঠোরও এই কুম্ভমেলা থেকে ফেরার কদিন পর মুম্বাইয়ের এক হাসপাতালে মারা যান। মেলায় যোগ দিতে যাওয়া আরেকটি দলের নয় জন হিন্দু ঋষি মারা যান।

কুম্ভ মেলা থেকে ফেরা তীর্থযাত্রীরা অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে এমন আশংকার মধ্যে কয়েকটি রাজ্য তাদের জন্য ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনের বিধান চালু করে। যারা কুম্ভ মেলায় যাওয়ার খবর চেপে যাওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয়।

কোন কোন রাজ্যে এদের জন্য আরটি-পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু খুব কম রাজ্যেই আসলে কুম্ভ মেলায় যাওয়া লোকজনের কোন তালিকা আছে এবং কোন রাজ্যেই এমন নিশ্ছিদ্র কোন ব্যবস্থা নেই যেটি দিয়ে তাদের সীমান্ত দিয়ে কে ঢুকছে আর কে বেরুচ্ছে সেটার ওপর নজর রাখা যাবে।

গত দু’সপ্তাহ ধরে ভারতের সমস্ত জায়গা থেকেই এমন খবর আসতে শুরু করেছে যে কুম্ভ মেলা থেকে ফিরে আসা লোকজনকে পরীক্ষা করে কোভিডের সংক্রমণ ধরা পড়ছে।

রাজস্থানের কর্তৃপক্ষ তাদের রাজ্যে, বিশেষ করে পল্লী এলাকায় দ্রুত কোভিড ছড়িয়ে পড়ার জন্য তীর্থযাত্রীদের দায়ী করছে। পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য উড়িষ্যায় কুম্ভ মেলা থেকে ফেরা ২৪ জনের কোভিড ধরা পড়েছে।

গুজরাটে কুম্ভমেলা থেকে ফিরছে এমন ৩১৩ জন ট্রেন যাত্রীর মধ্যে ৩৪ জনের কোভিড ধরা পড়েছে।
মধ্যপ্রদেশের একটি শহরে কুম্ভমেলা থেকে ফেরা ৬১ জনের মধ্যে ৬০ জনের, অর্থাৎ ৯৯ শতাংশই কোভিড-পজিটিভ পাওয়া গেছে পরীক্ষায়। কর্মকর্তারা এখন কুম্ভমেলা থেকে ফেরা আরও ২২ জনকে হন্যে হয়ে খুঁজছেন।

ভারতের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে মারাত্মক ভুল হয়ে গেছে তা শোধরানোর মতো পরিস্থিতি আর নেই। এখন যত কম ক্ষতি হয় সেই আশাটুকুই তারা করতে পারেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3

Tags: ,