বাকৃবিতে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সুপরিচিত। সুদীর্ঘ অতীত থেকেই এই বাংলার বুকে সকল ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সাথে একতাবদ্ধ হয়ে বাস করছে এবং জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রয়োজনে যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে এসেছে।

কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে কিছু ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা কুচক্রীমহল সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে পূজা উৎসবে বিচ্ছিন্নভাবে চোরাগুপ্তা হামলা চালানো বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম’  এক সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করেছে। আজ (২১ অক্টোবর) ১১.৩০ মিনিটে বাকৃবি লাইব্রেরী সংলগ্ন করিডোরে এই সম্প্রীতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ডঃ মোঃ সাইদুর রহমান বলেন,” মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরাম কাজ করছে। আজ আমাদের সাথে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন সহ সকল সাধারণ শিক্ষার্থী যোগ দিয়েছে। এই অপশক্তিকে রুখে দিতে আমাদের সকলকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।” তিনি আরো বলেন,” বেশ কয়েক বছর যাবত পূজা উৎসবের সময় বিচ্ছিন্নভাবে চোরাগুপ্তা হামলা চালানো হয় যাতে সহজেই সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরা যায়। বার বার সেগুলো ব্যর্থতায় পরিণত হলেও থামানো বা নির্মুল করা যাচ্ছে না। এগুলো কেবলই ধর্মীয় উন্মাদনা না কি রাজনৈতিক চক্রান্ত তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তুলে ধরা না হলে ঐধরনের ঘটনা বার বার ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যাবে।

গণতান্ত্রিক শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাচ্ছন্দে বসবাস করবে এবং তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করবে এটা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এবার কুমিল্লা ও রংপুরে সংগঠিত অরাজকতা এবং দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘটে যাওয়া বিচ্ছিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনায় সারা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভয়-ভীতি নিয়ে পূজা উৎসব পালন করছে যা মোটেও কাম্য নয়।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষকবৃন্দরা বর্তমান সরকার প্রধাণের নির্দেশনার উপর দৃঢ় আস্থা রেখে দেশের আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের যাতে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য গত ১৩ই অক্টোবর দুর্গাপূজার মহা অষ্টমীর দিন বুধবার ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়াদীঘির একটি পূজামণ্ডপে মূর্তির পায়ের কাছে কোরআন শরীফ পাওয়া যায়। পরে একদল লোক কোরআন শরীফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই পূজা মণ্ডপে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুরের পীরগঞ্জে জেলে পল্লীতে আগুন দেওয়া হয়।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3