হাওরে বিলুপ্তির পথে পুঁটি, ট্যাংরাসহ দেশীয় মাছ
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
অপরিকল্পিত মাছ শিকার, শিকারের সময় কারেন্ট জালের ব্যবহার, বিষ প্রয়োগ, পানি শুকিয়ে সকল মাছ আহরণ, ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ শিকারের কারণে হবিগঞ্জের হাওর এলাকা থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে বহু প্রজাতীর দেশীয় মাছ। হুমকিতে রয়েছে আরও অনেক প্রজাতি।
মাছের উৎপাদন বাড়ানোর অন্যতম উপায় হচ্ছে তাদের জন্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা। হবিগঞ্জ জেলায় ইতোপূর্বে এই মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলায় বহু মাছ বিলুপ্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে। বিশেষ করে বাছা, রিটা ও রাণীসহ বহু মাছ প্রচুর পরিমাণে দেখা মিলতে শুরু করলেও এই অভয়াশ্রম নির্দিষ্ট মেয়াদের পর আর না থাকায় নতুন করে হুমকি দেখা দেয়। চলতি বছর জেলার লাখাই উপজেলায় নতুন করে অভয়াশ্রম গড়ায় দেশীয় মাছ রক্ষায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
লাখাই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার জানান, মৎস্য অভয়াশ্রম হচ্ছে জলাশয়ের নির্দিষ্ট একটি জায়গায় সব ধরনের মাছের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও তাদের জননের ব্যবস্থা করা। দেশি অনেক মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, পুঁটি, ট্যাংরাসহ ৯১ প্রজাতির দেশি মাছ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের আশঙ্কা, যে হারে দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হচ্ছে, সে ধারা অব্যাহত থাকলে অদূর ভবিষ্যতে হাওরাঞ্চলসহ দেশের নদ-নদীতে মাছের অভাব পড়বে। এমন একটি সময় আসবে, যখন দেশি মাছ আর পাওয়াই যাবে না।
বিলুপ্তপ্রায় মাছের প্রজাতি রক্ষার জন্য উপজেলা শাসন ও মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে শনিবার লাখাই উপজেলার ১ নং লাখাই ইউনিয়নের ধলেশ্বরী ৩ জলমহাল এর পাশে কলকলিয়া নদীর ৫ হক্টর আয়তনের মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তুলার কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, শনিবার এই অভয়াশ্রম পরিদর্শন করেন স্বরাষ্টমন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী। অভয়াশ্রমে এমনভাবে সুরক্ষা প্রদান করা হবে যাতে করে হাওরে পানি কমার পর সেখানে মাছ এসে আশ্রয় নিতে পারে। পরে বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পেলে সকল মাছ হাওরে ছড়িয়ে পড়বে এবং বংশ বিস্তার করবে।

