যুবরাজকে সরানো যাবে না : সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদেল আল জুবায়ের বলেছেন, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে সরানোর কাজটি হবে রেডলাইনে অর্থাৎ শেষ সীমার কাজ। তাই তাকে সরানো যাবে না।
বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সৌদি আরবে আমাদের নেতৃত্ব হলো একটি রেড লাইন। দুটি পবিত্র মসজিদের জিম্মাদার (বাদশা সালমান) ও যুবরাজ (মোহাম্মদ বিন সালমান) হলেন শেষ সীমা (রেড লাইন)। তারা প্রত্যেক সৌদি নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করেন। প্রত্যেক সৌদি নাগরিক তাদের প্রতিনিধিত্ব করেন। বাদশা বা যুবরাজের প্রতি অপমানজনক কোনো আলোচনাই সৌদি আরব সহ্য করবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একদম পরিষ্কারভাবে বলেছি যে এই হত্যায় যুবরাজ জড়িত নন। এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে তদন্ত চলছে। দায়ী ব্যক্তিদের আমরা শাস্তি দেব।’
সৌদির রাজপরিবারের সমালোচক এবং সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের পেছনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ইন্ধন রয়েছে বলে বেশ গুঞ্জন উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাও বলেছে, যুবরাজের নির্দেশেই খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।
যদিও এটা স্পষ্ট করে এখনও প্রমাণিত হয়নি যে, যুবরাজই খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ইন্ধনদাতা, তারপরও বহির্বিশ্বে তার ভাবমূতি নষ্ট হয়েছে।
এমনকি স্বয়ং সৌদি রাজপ্রাসাদেও তার অবস্থা কিছুটা নড়বড়ে। এমতাস্থায় গুঞ্জন উঠেছে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে হয়তো তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হবে। তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিলেন সৌদি মন্ত্রী।
এর আগে গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশের পর নিখোঁজ হন সাংবাদিক জামাল খাশোগি। পরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, তাকে হত্যা করা হয়েছে এবং তার মরদেহ এসিড দিয়ে পুড়িয়ে ভষ্ম করা হয়েছে। সৌদি আরবও স্বীকার করেছে তিনি খুন হয়েছেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যুবরাজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের।
খাশোগি হত্যায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জড়িত কিনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তা জানতে চেয়েছে মার্কিন সিনেট। মঙ্গলবার সিনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির এক সভায় রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতারা এ ঘটনায় দ্বিতীয় আরেকটি তদন্ত চেয়ে ট্রাম্পকে একটি চিঠিও দিয়েছেন।
সিআইএর উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো জোর দিয়েই বলেছে, যুবরাজের নির্দেশ ছাড়া এ হত্যাকাণ্ড সম্ভব নয়। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাবের এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, এটা (খাশোগি হত্যাকাণ্ড) বিপদগামী গোয়েন্দা প্রতিনিধিদের কাজ।

