আফগানিস্থানকে একঘরে করার বিষয়ে হুশিয়ারি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
আন্তর্জতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুরাইশি স্পেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কুরাইশি বলেন, আফগানিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার পরিণতি হবে মারাত্মক। তা আফগান জনগণ, এ অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না। আফগানিস্তানকে নিয়ে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতে হবে।
আফগানিস্তানের নতুন বাস্তবতাকে মেনে নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই সবার উচিত তালেবানের সঙ্গে কাজ করা। দেশটিতে যাতে কোনো মানবিক সংকট দেখা না দেয়, বিশ্বের উচিত সে দিকে খেয়াল রাখা।
আফগানিস্তানের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে জেনেভায় একটি সম্মেলন আয়োজন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন কুরাইশি।
এদিকে তালেবানের এক মুখপাত্র বলেছেন, নারীরা মন্ত্রী হতে পারেন না, তাদের উচিত সন্তান জন্ম দেওয়া। নতুন আফগান সরকারে কোনো নারী মন্ত্রী না থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে গণাধ্যমে তালেবান মুখপাত্র সৈয়দ জেকরুল্লাহ হাশিমি এমন কথা বলেন।
তিনি বলেন, একজন নারী মন্ত্রী হতে পারেন না। তাকে এমন দায়িত্ব দেওয়ার অর্থ হচ্ছে—তারা বহনে অক্ষম এমন বোঝা তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া। মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই তাদের, বরং নারীদের উচিত সন্তান জন্ম দেওয়া। নারী বিক্ষোভকারীরা আফগানিস্তানের সব নারীর প্রতিনিধিত্ব করেন না।
নারীরা সমাজের অর্ধেক বলে সাক্ষাৎকারগ্রহণকারী দাবি করলে তালেবান মুখপাত্র বলেন, আমরা তাদের অর্ধেক মনে করি না। তারা কী রকম অর্ধেক? তাদেরকে সমাজের অর্ধেক দাবি করার মধ্য দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
হাশিমি বলেন, নারীদের অর্ধেক বলার অর্থ হচ্ছে, তাদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া, এর বাইরে কিছু না। তাদের অধিকার হরণ করা তখন ইস্যু হবে না। তখন যাচ্ছে-তাইভাবে নারীর অধিকার হরণ করা যাবে। গত দুই দশকে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পুতুল সরকার তাদের কার্যালয়ে যা করেছে, তা পতিতাবৃত্তি ছাড়া আর কিছু? তখন গণমাধ্যম এ নিয়ে কী বলেছিল?
আপনি সব নারীর বিরুদ্ধে পতিতাবৃত্তির অভিযোগ আনতে পারেন না—সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সব আফগান নারীকে বুঝাইনি। চারজন নারী রাস্তায় প্রতিবাদ করছেন, তারা সব আফগান নারীর প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন না। যারা আফগানিস্তানে সন্তান জন্ম দিয়ে নাগরিক বাড়াচ্ছেন, সন্তানদের ইসলামিক নৈতিকতা শিক্ষা দিচ্ছেন—ওই প্রতিবাদকারী নারীরা তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন না।

