রাশিয়ার স্যাটেলাইটবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র
নিউজ ডেস্ক:
গত সোমবার (১৫ নভেম্বর), ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে রাশিয়া কসমস-১৪০৮ নামের নিজেদের একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস করেছে রাশিয়া। এ স্যাটেলাইটবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহকারী এই স্যাটেলাইট ১৯৮২ সালে উৎক্ষেপণ করা হয়। এক টনের বেশি ওজনের এ স্যাটেলাইট অনেক আগেই কাজ করা বন্ধ করে দেয়।
স্যাটেলাইটটি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষের কারণে যে ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) নভোচারীরা ক্যাপসুলে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে বর্তমানে সাতজন নভোচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন যুক্তরাষ্ট্রের, একজন জার্মানির ও দুজন রাশিয়ার নাগরিক।
নাসা জানায়, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরপরই পূবসতর্কতা হিসেবে মহাকাশ স্টেশনটিতে ভিড়িয়ে রাখা মহাকাশযানের ক্যাপসুলগুলোতে নভোচারীদের দুই ঘণ্টার জন্য আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
নভোচারীদের ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলেন, “রাশিয়া যে পরীক্ষা চালিয়েছে, তা বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাশিয়া বেপরোয়াভাবে তার নিজস্ব একটি স্যাটেলাইটের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এই পরীক্ষার ফলে এখন পর্যন্ত এমন দেড় হাজারের বেশি ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে, যেগুলোর ওপর নজরদারি করা প্রয়োজন। এ ছাড়া কয়েক হাজার ছোট ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছে।”
এসব ধ্বংসাবশেষ সবার স্বার্থের জন্যই হুমকি বলে মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র। রাশিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজের জবাবদিহির জন্য যুক্তরাষ্ট্র তার অংশীদার ও মিত্রদের সঙ্গে কাজ করবে বলে জানান তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে রাশিয়ার মহাকাশ সংস্থা রসকসমস। এক টুইটে সংস্থাটি বলে, “ধ্বংসাবশেষগুলোর কক্ষপথ আইএসএসের কক্ষপথ থেকে সরে গেছে। স্টেশনটি কক্ষপথের গ্রিন জোনে আছে। ওই ধ্বংসাবশেষগুলোর জন্য নিয়মমাফিক নভোচারীদের মহাকাশযানে আশ্রয় নিতে হয়েছে।”
বিবৃতিতে তারা জানায়, “বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বার্তা পাওয়ার জন্য তাদের স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং এর মাধ্যমে আইএসএস ও এর নভোচারীদের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের হুমকি প্রতিরোধ ও মোকাবেলার স্বার্থে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। যেকোনো মূল্যে নভোচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান কর্তব্য হিসেবে আছে এবং থাকবে।”
সূত্র : এএফপি

