ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে ন্যাটো
নিউজ ডেস্ক:
যখন কোনো দেশে যুদ্ধ বা লড়াই চলে তখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে যায়। দ্রুত গতিতে অর্থ শেষ হতে শুরু করে। গত ১৫ এপ্রিল যখন জার্মানির পক্ষ থেকে ঘোষণা আসে যে, তারা ইউক্রেনকে অতিরিক্ত সামরিক সহায়তায় প্রায় ১০০ কোটি ইউরো দেবে।
ইউক্রেনকে ভারী অস্ত্র দিয়ে সহায়তার যে প্রতিশ্রুতি সম্প্রতি দেওয়া হয়েছিল এটা তারই একটি অংশ। এর মাত্র দুদিন আগেই ৮০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত সহায়তার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই সহায়তার অনুমোদন দিয়েছেন।
ইতোমধ্যেই ইউক্রেনকে একটি এস-৩০০ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট সিস্টেম পাঠিয়েছে স্লোভাকিয়া। তারা জানিয়েছে যে, ইউক্রেনকে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানও সরবরাহ করা হবে। সোভিয়েত মডেলের এই যুদ্ধবিমান চালনায় ইউক্রেনীয় পাইলটরা বেশ দক্ষ।
তাছাড়া ইউক্রেনের সমর্থনে পাঠানো সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলার বিরুদ্ধে মস্কোকে সতর্ক করেন ন্যাটোর প্রধান জেন স্টলটেনবার্গ। তারপর এসব ক্ষেত্রে হামলা থেকে বিরত থাকে রাশিয়া। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে অস্ত্র সরবরাহ বাড়িয়েছে। রাশিয়া তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ইউক্রেনের সেনাদের ভারী অস্ত্র থেকে বিরত রাখতে হামলা চালাতে পারে। ফলে সংকট আরও বাড়বে। ইউক্রেনকে দেওয়া সামরিক সহায়তার ফলে পরবর্তী শান্তি আলোচনাও এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো চায়, এই যুদ্ধকে ব্যবহার করে মস্কোকে ফাঁদে ফেলতে। যা দীর্ঘমেয়াদে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচন করতে পারে। একদিকে ইউক্রেনকে দেওয়া অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে অনিচ্ছুক, অন্যদিকে ন্যাটোকেও থামাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অবস্থান অবৈধ এবং অনৈতিক। তবে রাশিয়ার এই আক্রমণের অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ যেভাবে অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করে যাচ্ছে তাতে যুদ্ধ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এতে করে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।

