ভারতীয় হাতির মৃত্যুতে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণে রিট
নিজস্ব প্রতিবেদক :
ভারতের আসাম থেকে বন্যার পানিতে ভেসে আসা বুনো হাতি ‘বঙ্গ বাহাদুরের’ মারা যাওয়ার ঘটনায় এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। হাইকোর্টের আইনজীবী ইউনুস আলী আকন্দ এই রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন। আগামী রোববার এই রিট আবেদনের উপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে আইনি নোটিশ দিয়ে হাতির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন এই আইনজীবী।
ইউনুস বিবিসি বাংলা-কে বলেন, সংবিধানের ১৮ (ক) অনুচ্ছেদে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং তার নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্ব সরকারের।
কিন্তু হাতিটিকে রক্ষা করতে না পারায় সংবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, এই হাতিটি রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাছে ছিল, সেসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে থেকে এই এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করে সেটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেবার আবেদন করেছেন তিনি।
কিন্তু হাতিটির মূল্য এক কোটি টাকা তিনি কীভাবে নির্ধারণ করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইউনুস বলেন, তিনি অনুমানের উপর ভিত্তি করে এ ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণ করেছেন।
ইউনুস তার রিট আবেদনে উল্লেখ করেছেন হাতিটির উপর বারবার ভুলভাবে চেতনা নাশক ব্যবহারের কারণে সেটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করছেন।
সেজন্যই দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা উচিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইউনুস বলেন, এই ক্ষতিপূরণ যদি আদায় না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।
তিনি বলেন, হাতির মৃত্যুর জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিলে সেটি একটি নজির হয়ে থাকবে।
এর আগে ‘বঙ্গ বাহাদুরের’ মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে বুধবার আইনি নোটিশ দেন ইউনুস আলী।
তখন সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, দুপুর ১২টার দিকে মৎস্য ও পশুসম্পদ সচিব, বন ও পরিবেশ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ ছয়জনের বরাবর রেজিস্ট্রি করে ডাকযোগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধ করা হচ্ছে। তারা ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে।
১৬ আগস্ট ভোরে হাতিটি মারা যায়। উদ্ধারকারী দলের অবহেলায় হাতিটি মারা গেছে বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ ওঠে।
হাতিটির মৃত্যুর কারণ জানতে ওই দুপুরে তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করা হয়।
বিকালে কমিটির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। ময়নাতদন্তে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে বলে মঙ্গলবারই জানা যায়।
তবে হাতিটি মারা যাবার পর বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলেছেন, তারা এটিকে জীবিত উদ্ধারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন।
গত ২৮ জুন বন্য হাতিটি ব্রহ্মপুত্র নদ বেয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে।

