৩১টি ডিম পেড়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির কচ্ছপ বাটাগুর বাসকা
মংলা প্রতিনিধি:
সুন্দরবনের করমজলের প্রজনন কেন্দ্রে প্রথমবারের মত ৩১টি ডিম পেড়েছে বিলুপ্ত প্রজাতির একটি মাদি ‘বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কচ্ছপটি ডিমগুলো পেড়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা। বর্তমানে ডিমগুলো থেকে বাচ্চা ফোটানোর জন্য একটি নিরাপত্তা খাঁচায় রাখা হয়েছে। আগামী ৫৫-৬০ দিনের মধ্যে এ ডিম থেকে কচ্ছপের বাচ্চা ফুটবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
করমজল কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. আব্দুর রব জানান, বিলুপ্তপ্রায় বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপকে রক্ষার জন্য এর প্রজনন, সংরক্ষণ ও সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ চলছে সুন্দরবনে। বাংলাদেশ বন বিভাগ, জু ভিয়েনা (অস্ট্রিয়া) টি.এস.এ (আমেরিকা) এবং আই. ইউ. সি. এন (বাংলাদেশ) যৌথ উদ্যোগে প্রথমবারের মত সুন্দরবনের করমজলে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কেন্দ্রে বর্তমানে মাদি ও পুরুষ ১২টি কচ্ছপ ও কিশোর বয়সের ৯৬টি কচ্ছপ রয়েছে। এরমধ্যে একটি বাটাগুর বাসকা প্রজাতির মাদি কচ্ছপ বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত করমজলের সেন্ড বিচে ৩১টি ডিম পেড়েছে। আরো ৩টি কচ্ছপ এ মাসে ডিম পাড়ার সম্ভবনা রয়েছে।
তিনি আরো জানান, জু ভিয়েনা অস্ট্রিয়ার অর্থায়নে এর আগে বাংলাদেশ বন বিভাগের আওতাধীন ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কে এ প্রজাতির কচ্ছপের প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়। এতে সাফল্য পায়। পাওয়া যায় প্রচুর কচ্ছপ। তবে সুন্দরবন এলাকায় এই প্রথম এ প্রজাতির কচ্ছপ থেকে ডিম পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তাই আমাদের গবেষণা সফলতার মুখ দেখছে।
এ ব্যাপারে পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) সাইদুল ইসলাম বলেন, এক সময়ে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলসহ লবণাক্ত পানিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত বাটাগুর বাসকা বা বড় কাটালি কচ্ছপ। এখন সময়ের বিবর্তনে ও মানব কর্তৃক সৃষ্ট কর্মকাণ্ডে এই প্রজাতির কচ্ছপ প্রায় বিলুপ্তের পথে। এই কচ্ছপগুলোর সারাবিশ্বে রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। খাদ্য হিসাবেও এর রয়েছে পুষ্টিগুণ। প্রাপ্ত বয়সে একটি কচ্ছপ ২৫-৩০ কেজি ওজনের হয়।
এ কচ্ছপ ৭০-৮০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে বলেও জানান বন বিভাগের এ কর্মকর্তা।

