এবার রংপুরের একমাত্র বাঘিনী ‘শাওন’ এর মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক:

রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানার একমাত্র বাঘিনী ‘শাওন’ এর মৃত্যু হয়েছে।

গত শুক্রবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাঘিনীটির মৃত্যু হয়। বয়স বেশি হওয়ার কারণে এর মৃত্যু হতে পারে বলে রংপুর চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর আম্বর আলী তালুকদার জানান।

রংপুর চিড়িয়াখানা সূত্র জানায়, বাঘিনী শাওনের জন্ম হয় ২০০৩ সালের ৩০ জুন। ২০১০ সালে শাওনকে রংপুর চিড়িয়াখানায় আনা হয়। বয়স হয়েছিল ১৮ বছর সাত মাস। বয়স বেশি হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ে শাওন। এক পর্যায়ে গত ২১ জানুয়ারি খাওয়া বন্ধ করে দেয় বাঘিনীটি।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালে পরে ঢাকা থেকে চিকিৎসকদের একটি দল রংপুরে এসে বাঘিনীটিকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেয়। তবে এতে তার অবস্থার উন্নতি হয়নি। এর আগেও দুবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল শাওন।

রংপুর চিড়িয়াখানার বাঘ ও সিংহ পরিচর্যাকারী নজরুল ইসলাম জানান, মাঘের শুরুতে শীতের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়ে বয়স্ক বাঘিনী শাওন। খাওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় দুর্বল হয়ে পড়েছিল সে। গত শুক্রবার অসময়ের ঝোড়ো বাতাস ও বৃষ্টিতে শীতের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে শাওন আরো কাহিল হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যায় সে।

কিউরেটর আম্বর আলী তালুকদার বলেন, বার্ধক্যজনিত কারণে গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাঘিনী শাওনের মৃত্যু হয়েছে। বাঘ সাধারণত ১৫ থেকে ১৬ বছর বাঁচে। মৃত্যুর সময় বাঘিনীর বয়স হয়েছিল প্রায় ১৯ বছর। রাতেই ময়নাতদন্ত শেষে চিড়িয়াখানায় পরিবেশসম্মতভাবে এর মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

এদিকে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলেছে, বার্ধক্যজনিত কারণে বাঘিনী শাওনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এর আগে গত এক মাসে গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ১১টি জেব্রা, একটি বাঘ ও একটি সিংহী মারা গেছে। ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানায় একটি সিংহীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া সুন্দরবনে আরেকটি বাঘের মৃতদেহ পাওয়া গেছে।

বাঘিনী মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •