ঝুঁকির মুখে দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন খামার
নিজস্ব সংবাদদাতা:
দেশের একমাত্র বাগেরহাট মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারের মাঝখান দিয়ে খুলনা-মংলা রেললাইন স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলায় খামারটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটির মাঝবরাবর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অজ্ঞাতসারে অধিগ্রহণকৃত ১ হাজার ১০০ ফুট দৈর্ঘ ও ১৫০ ফুট প্রস্থের জায়গায় রেললাইনটি নির্মিত হলে মহিষের মারাত্মক প্রজনন সমস্যা, অনাকাঙ্খিত গর্ভপাত, বিকলাঙ্গ বাচ্চা প্রসবসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতার সৃষ্টি হবে।
এতে খামারটির ভেতরে স্থাপিত ভেড়ার খামারের ৪ একরসহ মোট ৯ একর জমি কমে যাওয়ায় পশুর চারণভূমিরও সঙ্কট দেখা দেবে। ফলে একমাত্র প্রজনন কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
প্রজনন খামারটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য হচ্ছে- শঙ্কর জাতের মহিষ উৎপাদনের জন্য মুরা ও নীলিজাতের ষাঁড় দ্বারা স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়ায় দেশি মহিষের জাত উন্নয়নের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন ও মাংস বৃদ্ধি করা। বর্তমানে মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইটালিয়ান মেডিটেরিয়ান মুররা নামক মহিষের বীর্য ব্যবহার করে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে আরও অধিক উৎপাদনশীল বাচ্চা উৎপাদন করা হচ্ছে। এখন সারা দেশে প্রায় ১৫ লাখ মহিষ থাকলেও একটি মাদী মহিষ গড়ে প্রতিদিন দুধ দেয় মাত্র ১ লিটার। কিন্তু খামারের শঙ্কর জাতীয় প্রতিটি মহিষ প্রতিদিন দুধ দেয় ১৫-২০ লিটার।
মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে রেলপথমন্ত্রণালয় কর্তৃক বাগেরহাটের মহিষ প্রজনন কেন্দ্রটির ভেতর দিয়ে রেললাইন নির্মাণের ঝুঁকির বিষয় নিয়ে উভয় মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান, যুগ্মসচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, মো. কামরুজ্জামান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ডিজি অজয় কুমার রায়, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শশী কুমার সিংহ, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের একমাত্র মহিষ প্রজনন খামারটির মারাত্মক ঝুঁকির কথা নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি আমাদের খামারের জমির ভেতর দিয়ে রেলপথ হবার বিষয়টিও আমাদের যথাসময়ে জানানো হয়নি।’
তিনি প্রজনন খামারটি বাঁচাতে সেটির ঝুঁকির কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিকভাবে উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘এরপর প্রধানমন্ত্রীর যে সিদ্ধান্ত নেবেন, আমরা সবাই তা মেনে নেবো।’
উল্লেখ্য, ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছরে নির্মিত মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারটির ভেতরেই স্থাপিত ৫ একর বিশিষ্ট একটি ভেড়ার খামার এবং ৭৫ একরবিশিষ্ট মহিষ খামারের মাঝখানেই রেলপথটির গতিপথ হচ্ছে। প্রজনন কেন্দ্রটিতে বর্তমানে ৩৭৭টি মহিষ আছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫০ শতাংশ ভর্তুকীমূল্যে খামার থেকে কৃষকদের মাঝে ২২৪টি ষাঁড়মহিষ বিতরণ করা হয়েছে এবং চলিত অর্থবছরে আরো ২৮টি ষাঁড় বিতরণের পরিকল্পনা আছে।

