উল্লাপাড়ায় ৪২ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নারী ও শিশুসহ ৪২ জন অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় ও উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ওই এলাকায় আজ সোমবার সকাল থেকে অসুস্থ গরু জবাই না করার জন্য মাইকযোগে প্রচার ও প্রচারপত্র বিলি করা হয়।

সোমবার দুপুরে উল্লাপাড়া উপজেলার সড়াতলা গ্রাম ঘুরে এসে এ তথ্য জানান সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা ইমান আলী। অ্যানথ্রাক্স রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আগামী ১৮ মে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য শিক্ষা অফিসার ইমান আলী জানান, গত ২৪ ঘন্টায় উল্লাপাড়ায় অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত ৪২ জন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অসুস্থ গরু জবাই করা, মাংস ধোয়া ও রান্না করার সময় সংস্পর্শের কারণেই এসব মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইমান আলী জানান, গত দুই সপ্তাহ আগে উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া গ্রামে পাঁচটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামের বাসিন্দারা অসুস্থ ওই গরুগুলো জবাই করে মাংস ভাগ করে নেয়। এর কয়েক দিন পর থেকেই গরুর মাংস কাটা ও রান্নার কাজের জড়িত ব্যক্তিরা এ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

ইমান আলী আরো বলেন, ‘এ রোগ গবাদি পশু থেকে মানুষে ছড়ায়, মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না। অসুস্থ গবাদি পশুর জবাই করা মাংস, লালা, রক্ত, হাড়, নাড়ী-ভুড়ি, ইত্যাদি সংস্পর্শে এলে মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আকতারুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, গবাদি পশু পালনকারীদের অসতর্কতার কারণে প্রতি বছর সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। প্রাণি সম্পদ বিভাগ জেলাব্যাপী ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ ছাড়া অসুস্থ প্রাণি জবাই ও খাওয়া বন্ধ, মৃত গরুকে ছয় ফুট মাটির নিচে পুঁতে রাখাসহ জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ শুরু করা হয়েছে। ওই এলাকাগুলোতে প্রচারপত্র বিতরণ কর্মসূচি চলছে বলে জানান আকতারুজ্জামান ভূঁইয়া।

চলতি মাসের প্রথম দিকে জেলার কামারখন্দ, শাহজাদপুর ও বেলকুচি উপজেলায় প্রায় অর্ধশতাধিক নারী ও শিশুসহ অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হয়। চিকিৎসা দেওয়ার পর কামারখন্দ, বেলকুচি ও শাহজাদপুর উপজেলায় নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি।

  •  
  •  
  •  
  •