গাছ কাটতেই হবে, এটাই বাস্তব সত্য: বনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি:

গাছ না কেটে কোনো উপায় নেই, এটাই হচ্ছে বাস্তব সত্য বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে বন অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০১৬’ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, গাছ কাটতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। আমাদের দেশ এতটুকু একটা দেশ, মাত্র ৫৬ হাজার বর্গমাইল। এখানে যদি আমরা ২৫ শতাংশ গাছ লাগানোর জন্য রেখে দেই, তা কি সম্ভব? নগর বাড়ছে, নতুন নতুন শহর গড়ে উঠছে, মানুষ বাড়ছে, এ জন্য বসতি স্থাপন বাড়ছে। প্রতিনিয়ত গাছ লাগছে, ইট ভাটায় হাজার হাজার গাছ পোড়ানো হচ্ছে। গাছ না কেটে কোনো উপায় নেই, এটাই হচ্ছে বাস্তব সত্য।

গাছ কাটার বিকল্প নেই জানিয়ে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, আমরা বলছি বাড়ির ছাদে গাছ লাগান, স্কুল- কলেজ প্রাঙ্গণ, বাড়ির আঙ্গিনায় গাছ লাগান। এছাড়া আমাদের কোনো পথ নেই।

এ সময় তিনি আরও বলেন, যখনই আমরা বনায়নের কথা বলি, পশ্চিমা দেশের কথা বলি। যেখানে সবুজ আর সবুজ। ওই সমস্ত দেশে মানুষ কম, জায়গা বেশি। কিন্তু এটা তো বাংলাদেশে করা সম্ভব নয়। এই বাস্তব সত্যটা মেনে নিতে হবে। তবে বন বিভাগের সফলতাকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। বন বিভাগ অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াইয়ে নেমেছে।

মঞ্জু এমপি বলেছেন, হাটে-বাজারে অন্যান্য পণ্যের সাথে সাধারণ মানুষ এখন গাছের চারা কিনছেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি সংস্কৃতি বাংলাদেশে তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

বর্ষাকাল গাছ লাগানোর সবচেয়ে ভালো সময় এমন পরামর্শ দিয়ে বনমন্ত্রী বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ছড়িয়ে দেয়ার আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩১ জুলাই ফার্মগেট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে রাজধানীর জন্য মাসব্যাপী ও সারাদেশের জন্য তিন মাসব্যাপী এই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান এবং বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি মানুষকে অন্তত একটি করে বনজ, ফলজ এবং ভেষজ- এ তিন প্রজাতির গাছ রোপণের আহবান জানান।

এ বছর রাজধানীর মেলায় মোট স্টল ছিল ৬৮টি। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির মোট ১০ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৮টি চারা বিক্রি হয়েছে। যার আর্থিক মূল্য ৬ কোটি ৪ লাখ ১৫ হাজার এক’শ তেতাল্লিশ টাকা। এর মধ্যে ফলজ ২ লাখ ১৮ হাজার ৪৭৭টি, বনজ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০৫টি, ওষুধি ৪২ হাজার ৮৩৩টি, মসলা ৩২ হাজার ২২২টি, ক্যাকটাস ৩১ হাজার ২০৩টি, অর্কিড ২৩ হাজার ৭৫৭টি, শোভাবর্ধনকারী ১ লাখ ৬৩ হাজার ৯০৬টি, দেশীয় বিলুপ্তপ্রায় ১৫ হাজার ৩০৮টি এবং অন্যান্য ৮৯ হাজার ৮৫৭টি চারা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ-আল ইসলাম জ্যাকব। আরো উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন সচিব ড. কামাল উদ্দীন আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: