কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নদী ভাঙ্গন রোধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ
রেজাউল করিম রেজা, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে নদী ভাঙ্গন রোধ করার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রৌমারীবাসী। বৃহস্পতিবার দুপরে রৌমারী নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের নেত্রীবৃন্দসহ সকল শ্রেণির পেশার মানুষ একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রর্দক্ষিণ করে।
পরে উপজেলা চত্ত্বরে রৌমারী নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আলহাজ মোঃ আব্দুল কাদের (যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা) সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কুড়িগ্রাম-৪ এর সংসদ সদস্য মোঃ রুহুল আমিন বলেন, এখনিই ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গন রোধ না করলে অদুর ভবিষ্যতে মহান স্বাধীনতার মুক্তাঞ্চল রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলা বাংলাদেশের মানচিত্র হতে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে।
কুড়িগ্রাম-৪ এর সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ জাকির হোসেন বক্তব্যে বলেন, গত ১৬বছরে এ দুটি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ৫৬টি মৌজার মধ্যে ৩৫টি মৌজা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। গৃহহীন হয়েছে ১৯,০০০ পরিবার। মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব পরিবারের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ। এসব পরিবার বিভিন্ন রাস্তার দুপাশে, হেলিপ্যাডে,এবং আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এছাড়াও রাক্ষসে ব্রহ্মপুত্র নদের গর্ভে বিলীন হয়েছে ১৭টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি হাইস্কুল, ২টি মাদরাসা, ১টি তহশিল ভবন, ১টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন,১টি ফাড়ি থানা, ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক, ৫টি ব্রীজ, ১০টি মসজিদ, ১টি বিএস কোয়াটার, ৭শ হেক্টর জমিসহ ২৮কিলোমিটার কাচা ও পাকা রাস্তা।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রেজাউল ইসলাম মিনু, রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু হানিফ মাস্টার, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সামসুল আলম, বন্দবেড় ইউপি আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, প্রভাষক আব্দুস সবুর, প্রভাষক রেজাউল ইসলাম রেজা,মুক্তিযোদ্ধা সাইদুর রহমান প্রমূখ।
সমাবেশ শেষে ভাঙ্গন রোধ কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রসাশনের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

