একজন সমিরের পা সংযোজনের স্বপ্ন

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

মো.সমির উদ্দীন।পা হারিয়ে ফেলার চেয়ে বরং একেবারেই না পাওয়ার বেদনাটা তার বেশী। হয়তো তাই, বিজয় দোর গোড়ায় এসেও অজানা আশংকায় অস্থির সমির। একই কারণে কষ্টটা বেড়ে গেছে তার ঠাকুরগাঁও রানীশংকৈল উপজেলার ভুরনিয়া দিহট গ্রামের বাড়ি তার। গ্রাামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান সমির যেন গোবরে পদ্মফুল। সেই শিশুকাল থেকে দিনভর শ্রম খেটে পরিবারকে সহায়তাদানের চেষ্টা করেছে। বর্তমানে সে দিনাজপুর আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র । কিন্তু প্রতিবন্ধী। যদিও চার বছর আগে স্বভাবিক ছিলাম সে। সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীন পারিবারিক আর্থিক সমস্যার জন্য যান্ত্রিক লাঙ্গলে হাল চাষ করতে গিয়ে এবং সেই লাঙ্গলে সে দুর্ঘটনার শিকার হয়। যার ফলে তার বাম পা বিকলাঙ্গ হয়। তখন থেকে সে অনেক কষ্ট নিয়ে লাঠির সাহায্যে চলাফেরা করছে। সে প্রায় তিন মাস রংপুর মেডিকেল চিকিৎসাধীন ছিলো।

আল্লাহর রহমতে বেঁচে আছে সে। কিন্ত হাটার সুখ, দৌড়ানোর সুখ, খেলাধুলার সুখ, আনন্দ বিনোদনের সুখ তার সারা জীবনের জন্য হারিয়ে গেছে। তবুও এই কষ্টের জীবন নিয়ে পড়াশোনা করছে এবং জে.এস.সি পরীক্ষায় ২০১৩ সালে ও এস.এস.সি পরীক্ষায় ২০১৬ সালে বাণিজ্য বিভাগ নিয়ে ভালো ফলাফল নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। বর্তমানে সে দিনাজপুর আদর্শে কলেজ পড়ছে। সে প্রতিদিন কলেজে যায়, কিন্তু তার যাওয়া আসায় আনেক কষ্ট। কারণ তার একটা পা নাই। সে শুনেছে কৃত্রিম পা সংযোজন করে চলা ফেরা করা যায় কিন্তু তার সেই সামর্থ্য নাই। তার বাবা অনেক কষ্ট করে তার লেখা পড়ার খরচ চালাচ্ছে।
সেও মন দিযে পড়াশোনা করছে যাতে এই জীবনে জ্ঞান অর্জন করে ভালো একটা চাকরি বা পেশা গ্রণন করে সৎ পথে এবং স্বাচ্ছন্দে জীবন যাপন করতে পারে। সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চায় এবং জ্ঞান অর্জন করতে চায়। কিন্তু টাকার অভারেব কৃত্রিম পা সংযোজন করতে পারছে না সে।
সমিরের প্রশ্ন-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন কি তার পূরণ হবে? ভবিষ্যতে কিভাবে চলাফেরা করবে ? এসব চিন্তা প্রতিনিয়ত তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। সে কৃত্রিম পা সংযোজন করার জন্য তার জেলার সংসদ সদস্যের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রীর কাছে অনুদান চেয়ে ছিলো কিন্তু কিছুই পায়নি। তাহলে কি সরকারি ভাবে আমি কোনো সহযোগিতা পাওয়া যাবেনা ? এমনি প্রশ্ন তার।

  •  
  •  
  •  
  •