নাটোরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ
নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরের লালপুর উপজেলার ভেল্লাবাড়ীয়া আঃ ওয়াহেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বাক্ষর জালিয়াতি করে নিজে নিয়োগ নেয়া, স্কুলে শাখা খুলে দুইজন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ১৩ লাখ টাকা বাণিজ্য করাসহ তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ করেছেন ভুক্তভূগিরা। বিষয় গুলো তদন্ত করে প্রমাণিত হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পরেও তিনি নিজের পদে এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। অপরদিকে সাড়ে ছয় লাখ করে টাকা দিয়ে নিয়োগ পাওয়া সহকারী দুজন শিক্ষক এমপিওভূক্ত না হওয়ায় মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো বিভিন্ন অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক এনামুল হক ২০১২সালের ৬ মার্চ নিয়োগ পেলেও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শকের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ২০০৮ সালের ৫ ডিসেম্বর ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণীতে এবং ২০০৯ সালের ১০ ডিসেম্বর তারিখ দেখিয়ে ৮ম শ্রেণীতে ‘খ’ শাখা হিসেবে একটি শাখা খোলেন। পরে ৮ম শ্রেণীতে সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে মোছাঃ মেরিনা খাতুন এবং পদ না থাকার পরও কৃষিশিক্ষা/ জীব বিজ্ঞান বিষয়ে মোঃ তোফায়েল আহমেদ নামে দু’জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেন। প্রধান শিক্ষক স্কুলের উন্নয়ন তহবিল (ডোনেশন) এর নামে সাড়ে ৬ লাখ করে মোট ১৩ লাখ টাকা নেন। পরে এমপিওভূক্তির জন্য তাদের কাগজপত্র মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠালে প্রধান শিক্ষকের জালিয়াতি ধরা পড়ে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রথমে দুবার কারণ দর্শানোর নোর্টিশ প্রদান করা হয়। পরে সেসিপ এর সহকারী পরিচালক মোঃ সবুজ আলম চলতি বছরের ১জুন এ সব জালিয়াতি প্রমান হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের জন্য ডিজি, জেলা শিক্ষা অফিসার ও স্কুল কমিটির সভাপতির কাছে চিঠি পাঠান। তার পরেও এখন পর্যন্ত তিনি নিজের পদে বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
প্রধান শিক্ষকের বেতন বন্ধের আদেশ দেয়ার সময় স্কুল পরিচালনা কমিটির তৎকালিন সভাপতি মোঃ আফসারুজ্জামান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো জবাবে উল্লেখ করেন, ২০১২ সালে তৎকালিন সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে প্রধান শিক্ষক এনামুল হক নিয়োগ নেন। এর পর থেকেই তিনি স্বাক্ষর জাল করে একের পর নানা কর্মকান্ড শুরু করেন। স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে তৎকালিন সভাপতি সাইফুল ইসলাম মামলা করার পর বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করলে প্রধান শিক্ষকের ১৩টি জাল প্রমানিত হয়। তিনি স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের সময় প্রথম স্থান অধিকারী মোঃ হুসাইন আল আরিফকে নিয়োগ দেয়ার কিছু দিনের মধ্যে ফলাফল সিট পরিবর্তন করে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মোঃ আলা উদ্দিনকে নিয়োগ দেন। বেতন না হলে এখনো স্কুলটিতে দুজন সহকারী প্রধান শিক্ষক কর্মরত আছেন। একই ভাবে একই বছরে সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে সহকারী শিক্ষক পদে প্রথম স্থান অধিকারী নাসরিন সুলতানাকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা শিউলী খাতুনকে নিয়োগ প্রদান করেন। সহকারী গ্রনন্থাগারিক পদে প্রথম স্থান অধিকারী আবু সায়েমকে নিয়োগ দেয়ার কিছুদিন পর আবার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থী মোঃ আলাল উদ্দিনকে নিয়োগ দেন। এখনোও এদের বেতন হয়নি। এসব নিয়োগের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক প্রায় ৩০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে কমিটি গঠনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে।
এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক এনামুল হক এই প্রতিবেদকের কাছে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ হুসাইন আল আরিফ ও সহকারী গ্রনন্থাগারিক আবু সায়েমকে নিয়োগ প্রদান করেন নাই। স্বাক্ষর জালের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী আগের সভাপতি সাইফুল ইসলামই এ সব স্বাক্ষর জাল করেছেন। সাইফুল ইসলাম স্কুলের ২০ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন এবং ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে বলেও তিনি দাবী করেন। দীর্ঘ দিন বেতন না পাওয়া সহকারী শিক্ষক মোছাঃ মেরিনা খাতুন ও তোফায়েল আহম্মেদের নিকট থেকেও তিনি কোন টাকা পয়সা নেন নাই। তাকে ঘায়েল করার জন্যই এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য স্কুল থেকে এই স্কুলে এসে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিজের নিয়োগের সময় সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ হাস্যকর বলেও তিনি মন্তব্য করে।

