নাটোরে কাল বৈশাখী, গাছ চাপায় নিহত এক

নাটোর প্রতিনিধি:
নাটোরে কাল বৈশাখী ঝরে ঘরের উপর গাছ চাপা পড়ে গুরুদাসপুরের চরকাদহে একজন নিহত হয়েছে। নিহত ওই ব্যক্তির নাম মনযিল। সে পার্শ্ববর্তী জেলার সিরাজগঞ্জের তাডাশ উপজেলার হরিণচড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে। দুদিন খরা হওয়ার পর আবারো আজ বিকাল থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝর ও বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটা স্থানে হালকা শিলা বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। এতে আবারো নদী ও বিলে পানি বৃদ্ধির আশংকা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবী এতে ধানের তেমন ক্ষতি হবে না তবে মৌসুমি ফলের কিছুটা ক্ষতি হবে। এদিকে নাটোরের বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের নয়া বাজার এলাকায় রাস্তায় ঝরে গাছ পড়ে প্রায় ১০ কিলো মিটার যানজটের সৃষ্টি হয়।

শনিবার বিকাল সাড়ে পাচটার দিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে ঝর ও বৃষ্টি শুরু হয়। এতে জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার চরকাদহ এলাকায় একটি ঘরের ওপর গাছ পড়ে মনযিল নামে একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া উপজেলার নয়াবাজারে রাস্তার উপরে গাছ পড়ে প্রায় ঘন্টাব্যাপী ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে গাছ সড়িয়ে ফেলে। বর্তমানে ধীর গতিতে যান চলাচল শুরু হয়েছে বলে হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত জানিয়েছেন। এদিকে নাটোর শহরসহ জেলার সিংড়া, গুরুদাসপুর ও নলডাঙ্গা উপজেলার কয়েকটি স্থানে হালকা শিলা বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে বৃষ্টির ফলে নতুন করে চলনবিল, হালতিবিলসহ নদীতে পানি বৃদ্ধির আশংকা করা হচ্ছে। এদিকে খরার দুদিনে তড়িঘড়ি কাচা পাকা ধান কেটে বাড়িতে আনলেও বৃষ্টিতে তা মাড়াই করে ঘরে তুলতে বিঘœ ঘটছে। ফলে কৃষকদের ধান ঘরে তোলা নিয়ে সমস্যা কাটছে না। এদিকে নতুন করে বৃষ্টি হওয়ায় রাতে বিলে পানি প্রবেশের আশংকাও রয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবী, শিলা বৃষ্টিতে ধানের নতুন করে তেমন কোন ক্ষতি হওয়ার কিছু নেই। খামারবাড়ির উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন , এতে মৌসুমি ফল আম, লিচু ও কাঠালের অনেকটাই ক্ষতি হতে পারে। তবে ক্ষতির পরিমানটা কত বৃষ্টি শেষ না হলে বিস্তারিত জানানো যাবে না।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি ও ঝর হচ্ছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  

Tags: