উত্তরের সীমান্ত জেলা দিনাজপুরে শেষ মূহুর্তে জমে উঠছে ঈদের কেনাকাটা
শাহ্ আলম শাহী,স্টাফ রিপোর্টার,দিনাজপুর থেকে:
উত্তরের সীমান্ত জেলা দিনাজপুরে শেষ মূহুর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা। শোপিং মল ও সুপার মার্কেটগুলোতে সব বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভীর পরিলক্ষিত হচ্ছে। ফুটপাতেও চলছে ঈদের কেনাকাটা।
দিনাজপুরে এবার মেঘাটু ,কারিনা,মনটেক্স,নাতাশা,প্লাজো,ফ্লোরটাচ,সাউথ কাতান, জর্জেট কাতান,ব্যানারসী শাড়ি – থ্রিপিস এবং পাঞ্জাবী চাহিদা বেড়েছে। লেটেষ্ট যোগ হয়েছে সিল্কের বাহুবলী। ক্রয় করতে তরুন তরুনীসহ সব বয়সের মানুষ ভীড় করছে শোপিং মল ও সুপার মার্কেটগুলোতে।
সকাল ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কেনা বেচা। তবে একই নামে দেশী শাড়ী ও থ্রীপিস মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্তদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে গরম এর কারনে সুতীর কাপড়ের চাহিদা এবার বেশী।উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা তাদের পছন্দের কাপড় কিনতে উপচে পড়া ভীড় শহরের গুলসান মার্কেট,লুৎফুননেছা টাওয়ার,বেগম প্লাজা,রহিম সুপার মার্কেট, জাবেদ সুপার মার্কেট এবং গ্রীন সুপার মার্কেটগুলোতে। এবার ঈদে উচ্চবিত্ত গৃহবধূদের পছন্দের শাড়ী ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা মূল্যের রাজশাহী সিল্ক, সাড়ে ৭ হাজার টাকায় সাউথ কাতান, ৬ হাজার টাকায় জর্জেট কাতান, ৭ হাজারে মোহিনী মোহন কাঞ্জিলাল শাড়ি গৃহবধূদের আর্কষ্ট করে তুলেছে। আবার একই নামে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা মূল্যের শাড়ি মধ্য বিত্ত ও নি¤œ মধ্যবিত্তদের কাছে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে দেশী কাপড় ভারতী কাপড়ের সঙে পাল্লা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে।
এবার নাতাশা , বাহুবলী, মেঘাটু ,ফ্লোর টার্চ, লেহেঙ্গা সবার নজর কেড়েছে। দাম হাতের নাগালে হওয়ায় ক্রেতারাও খুশী।এবার ঈদে দিনাজপুরের বিপনী বিতানগুলোতে বিদেশী কাপড়ের পাশাপাশি দেশী পোশাকগুলো উঠতি বয়সের তরুন তরুনীদের নজর কেড়েছে। দাম কিছুটা বেশী হলেও বেচাবিক্রি নিয়ে খুশী বিক্রেতারাও।
জেলা শহরের প্রধান বাণিজ্যিক এলাকা রথখলা, বড়বাজার, তেরিপট্টি ও গৌরাঙ্গবাজারের বিপণী বিতানগুলোতে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে কেনা-বেচা। মার্কেটগুলোতে দেশি পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় পোশাকের কেনাবেচা চোখে পড়ার মতো।শাড়িসহ রেডিমেড পোশাক কেনার জন্য ছোট বড় সব মার্কেটেই ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। শিশু ও নারীদের পাশাপাশি ছেলেরাও ঈদের নতুন পোশাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছে মার্কেটগুলোতে। রমজানের প্রথম দিকে দোকানে ক্রয়-বিক্রয় কম থাকলেও বর্তমানে ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। ক্রেতাদের ভীড় সামাল দিতে অনেক মার্কেটেই দোকানিদের হিমশিম খেতে দেখা গেছে। এমনকি এবারের ঈদ মার্কেটে ক্রেতাদের মধ্যে সিংহভাগই নারী।
তবে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে বেশি। এর বাইরে কসমেটিকস ও ষ্টেশনারী দোকানেও কমতি নেই ক্রেতাদের। গত বছরের তুলনায় পোশাকের দাম এবার খুব একটা না বাড়ায় সন্তুষ্ট ক্রেতারা। সেই সাথে কেনা-কাটার নিরাপদ পরিবেশের কারণেও ক্রেতারা স্বস্তি¡ প্রকাশ করেছেন।
জেলা শহরের জাবেদ সুপার মার্কেট,উত্তরা মার্কেট,আব্দুর রহিম সুপার মার্কেট,গুলশান মার্কেট,লুৎফর নেশা টাওয়ার,বিগ বাজার, মালদহপট্রিস্থ বিপনী-বিতানগুলোতে ভীর বেশী। ছাড়াও ১৩টি উপজেলা শহর ও গ্রামগঞ্জের মার্কেট, বিপনীবিতান গুলোতেও উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সকাল থেকেই শহরের সকল শপিং মার্কেট, ফ্যাশন হাউস ও বিপণী বিতানগুলো ক্রেতা সমাগমে মুখর হয়ে উঠেছে। বাহারি পোশাক আর নতুন ডিজাইনের পোশাকের পসরা সাজিয়ে দোকানীরা ক্রেতা আরক্ষণ করছে।
এদিকে বিক্রেতারা জানান, ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দোকানে দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে নানান ডিজাইনের লং কামিজ লেহেংগাসহ দেশি-বিদেশি রঙ-বেরঙের পোশাক। এবার তরুণীদের চোখ বাহুবলীর দিকেই বেশি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার দেশি পোশাকের পাশাপাশি ভারতীয় পোশাক বিক্রি হচ্ছে সমানতালে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, দেশি বিদেশি যাই হোক ঈদে চাই পছন্দের পোশাক। কিন্তু হতে হবে সাধ্যের মধ্যে। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে বেচা-বিক্রিও ততই বাড়বে।
ঈদ উপলক্ষে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই দর্জির দোকানগুলোতেও। বেশির ভাগ দর্জির দোকানে নতুন করে কোনো অর্ডার নেওয়া হচ্ছে না। আগে নেওয়া কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা করছে তারা। জুতা’র দোকানেও ভীড়ের কমতি নেই।

