পুড়ে মরল ১৯টি পশু, গাবতলী পশুর হাটের আগুনে

ডেস্ক রিপোর্ট :

রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আগুন লেগে ১৯টি পশু পুড়ে মারা গেছে। এর মধ্যে ১৩টি গরু, ৫টি ছাগল ও ১টি ভেড়া রয়েছে। এ ছাড়া দগ্ধ ৫টি গরুকে জবাই করা হয়েছে।

তবে গাবতলী গবাদিপশু ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতির দাবি, আগুনে গরু, ছাগল, ভেড়াসহ ৪৬টি পশু মারা গেছে এবং তিন গরু ব্যাপারীর ৯ লাখ টাকা পুড়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্র বলেছে, গতকাল সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাবতলী স্থায়ী পশুর হাটে প্রবেশপথের কাছেই ডান দিকের একটি ছাউনিতে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছাউনির বাঁশের খুঁটি ও খড়কুটোয় এবং চালায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে পশ্চিম দিকের আরও দুটি ছাউনিতে আগুন বিস্তৃত হয়। গরুর ব্যাপারী ও পশু তত্ত্বাবধানকারীরা বালতি দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। ওই তিন ছাউনিতে শতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়া ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও কল্যাণপুরের পাঁচটি ইউনিট সেখানে গিয়ে পানি ছিটিয়ে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বেলা ১১টার দিকে আগুন নিভিয়ে ফেলতে সক্ষম হন। ওই তিন ছাউনিতে বাঁশের খুঁটিতে দড়ি দিয়ে বাঁধা পশুগুলো মারা যায়। কয়েকটি গরু দড়ি ছিঁড়ে বেরিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও দগ্ধ হয়েছে। কয়েকটি গরুকে দড়ি কেটে বের করে আনা হয়। এগুলোরও কয়েকটি দগ্ধ হয়েছে।

প্রথমে যে ছাউনিতে আগুন লেগেছিল তার পাশের চা দোকানি মো. ইউনুস বলেন, হাটের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বাঁশের খুঁটি ও খড়কুটোতে আগুন ধরে যায়। তখন প্রচুর ধোঁয়া দেখা যায়। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তখন ওই ছাউনির দক্ষিণ দিকের ছাউনিতে থাকা রাখালেরা ‘আগুন লাগছে’ ‘আগুন লাগছে’ বলে চিৎকার করেন। তাঁরা ছাগল ও ভেড়া সরিয়ে নেওয়া শুরু করেন। ওই সময় বাতাস থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্তব্যরত পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে ১৩টি গরু, ৫টি ছাগল ও ১টি ভেড়া মারা যায়। আগুনে ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিমুজ্জামান আগুনে ১৯টি পশু মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুপুর ১২টার পর গাবতলী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ শেষ করেছেন। পুড়ে যাওয়া ছাউনি তিনটির পাশে উৎসুক মানুষের ভীড়। তিনটি ছাউনিই পুড়ে গেছে। পোড়া ১২টি গরু, ২টি করে ভেড়া ও ছাগল মৃত পড়ে আছে। পাশে ৫টি পোড়া গরু জবাই করা অবস্থায় পড়ে আছে। হাটে গরু, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে অন্তত ২০টি পশু দগ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন ব্যাপারীকে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের একজন মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার পলাশ ব্যাপারীর দুটি গরু পুড়ে মারা গেছে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি শেডের মাচায় শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ আগুনের তাপ লাগায় তিনি নিচে নেমে দেখেন দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। তাঁর পাঁচটি গরুর মধ্যে দুটি পুড়ে মারা গেছে। একটি দড়ি ছিড়ে বেরিয়ে আসার পর আর পাননি। বাকি দুটি গরু দগ্ধ হয়েছে। তাঁর একটি গরুর দাম এক দিন আগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বললেও বিক্রি করেননি। একই শেডে তাঁর ভাই হেলাল ব্যাপারীর চারটি গরু পুড়ে মারা গেছে। আরেকটি দগ্ধ হয়েছে। গরুগুলোর মৃত্যুতে ভাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

গরু ব্যাপারী আমজাদ হোসেন বলেন, তাঁর ২৫টি গরুর মধ্যে ৬টি পুড়ে মারা গেছে। প্রতিটির দাম হবে ৩ লাখ টাকা। দুটি গরু দগ্ধ হয়েছে। দগ্ধ গরু দুটি ৩০ হাজার টাকা করে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই দুটি গরুতে তাঁর ক্ষতি হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

গাবতলী গবাদিপশু ব্যবসায়ী বহুমুখী সমিতির সভাপতি হাজি মো. মজিবুর রহমান দাবি করেন, হেলাল, শিপু, মহসিন, মোহাম্মদ হোসেন, আমজাদ হোসেন, বাবুল ব্যাপারী, উজ্জ্বল ও গণি ব্যাপারীর ২১টি গরু, ২০টি ছাগল ও ৫টি ভেড়া মারা গেছে। ওই তিনটি ছাউনি মূলত ছাগল-খাসির। ফাঁকে ফাঁকে গরু রাখা হতো। অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্ত শেডগুলো নির্মাণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এগুলো মেরামত না হলে কোরবানিতে ছাগল ও খাসির হাট চালু রাখা যাবে না। এই হাটে অগ্নিকাণ্ড এটিই প্রথম। অগ্নিকাণ্ডের সময় অনেক গরু-ছাগল দগ্ধ ও অক্ষত অবস্থায় লুট হয়েছে।

মজিবুর রহমান মনে করেন, জ্বলন্ত সিগারেটের অবশিষ্টাংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

তবে গরু-ছাগল লুট হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দারুস সালাম থানা-পুলিশ।

  •  
  •  
  •  
  •