করোনা-লকডাউনে বন্যা, দিশেহারা মানুষ

bonna

নিউজ ডেস্কঃ করোনা ঠেকাতেই নাভিঃশ্বাস ওঠার দশা জেলা প্রশাসনের। এর মধ্যে অতিবৃষ্টিতে নতুন করে দেখা দিয়েছে বন্যার আশঙ্কা। প্লাবিত হতে শুরু করেছে রংপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাটের নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল।

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়ে দুই ইউনিয়নে প্রায় ছয় হাজার পরিবার। নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ১৭ পরিবারের ঘরবাড়ি। তিস্তাপারে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে, আতঙ্কে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে লোকজন।

গত এক সপ্তাহ ধরে ভারতের ১১ জেলায় ভারী বৃষ্টি হয়েছে। পানি ধরে রাখতে না পেরে তিস্তার উৎস মুখে খুলে দেওয়া হয় গজলডোবা ব্যারাজের গেট। বুধবার দুপুরে তিস্তার অসংরক্ষিত ৪০ কিলোমিটার এলাকায় জারি করা হয় লাল সংকেত।

তিস্তা নদীর দোমহনী থেকে এদেশিয় ভূখন্ড পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটারে জারি থাকে হলুদ সংকেত। নদীতে পানি ছাড়া হয় এক লাখ ২৭ হাজার কিউসেক। এই পানি মাত্র ছয় ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ায় রূপ নেয় বন্যায়। যদিও আজ শুক্রবার দুপুরে গজলডোবা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ তাদের লাল ও হলুদ সংকেত তুলে নেয়।

নদী ভঙনে ১৭ পরিবারের ঘরবাড়ি তিস্তায় বিলীন হয়েছে। চরের রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বন্যা এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, গঙ্গাচড়ায় স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে যে বাঁধটি বানিয়েছিল তা ছিল অপরিকল্পিত, তাই ভেঙে গেছে। তবে ওই এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আকস্মিক উজানের ঢলে তিস্তায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। তবে দুই একদিনের মধ্যে পানি কমবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3