বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ

হালিমা তুজ সাদিয়া:

আজ বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। ১৯৮৭ সালের দিকে বিশ্বে জনসংখ্যা ৫০০ কোটি ছাড়িয়ে গেলে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যে এক ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয় যা থেকে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির পরিচালনা পরিষদ ১৯৯০ সালের ১১ জুলাই দিনটিকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হিসেবে পালন করে। প্রথমবারের মতো ৯০টি দেশে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপিত হয় দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো পরিবার পরিকল্পনা, লৈঙ্গিক সমতা, দারিদ্র্য, মাতৃস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকারের মতো জনসংখ্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা

প্রত্যেক বছর আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্যকে লক্ষ্য রেখে দিবসটি উদযাপিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্যের বিষয়, ‘অধিকার ও পছন্দই মূল কথা: প্রজননস্বাস্থ্য ও অধিকার প্রাধান্য পেলে কাঙ্খিত জন্মহারে সমাধান মেলে’।
অর্থাৎ,এই বছরের প্রতিপাদ্য মূলত- বিশ্বজুড়ে মেয়েদের অধিকার রক্ষা এবং সুরক্ষা কেন্দ্রিক এখানে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখার উপরেও জোর দেওয়ার ইঙ্গিত করা হয়েছে, বিশেষ করে এই মহামারীর সময়।

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশও প্রতি বছর বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালন করে আসছে। তবে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতির কারণে এ বছরও হয়তো বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষ্যে তেমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হবেনা। তবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর অনলাইনের আলোচনা সভার আয়োজন করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সারাবিশ্বে বর্তমান জনসংখ্যা ৭.৯ বিলিয়ন (জুলাই ২০২১ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী)। বাংলাদেশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (১০ জুলাই, ২০২১: রাত ১০.৫৩ মিনিট) এদেশের জনসংখ্যা ১৬৬,৮৭৯,৮৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৪,৪৪৭,৬৬৪ জন (৫০.৬%) এবং নারী  ৮২,৪৩২,১৯৯ জন(৪৯.৪%)। বর্তমানে এদেশের মানুষের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল বেড়ে হয়েছে ৬৯.৮ বছর এবং প্রতি  বর্গকিলোমিটারে বাস করছে ১১৫৯.৯ জন

টেকসই উন্নয়নে পরিকল্পিত ও দক্ষ জনসংখ্যার গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশের জনসংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় চাপ পড়ছে অর্থনীতি সহ সবদিকেই। এই জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করা অত্যন্ত জরুরি। আর এজন্য দরকার জনগণের পুষ্টির স্তর-উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন- যা একটি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক ও প্রাথমিক দায়িত্ব। এদেশে ৫০ শতাংশ মা প্রসবের সময় দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সেবা পায় না। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ সবচেয়ে বেশি। চাহিদা থাকার পরও ১১ শতাংশ নারী প্রয়োজনের সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পান না আবার অনেকক্ষেত্রে সঠিক চিন্তা- ভাবনার অভাবের কারণে জনসংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এজন্য কমিউনিটি লেভেলে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
ad0.3